ক্রীড়া ডেস্ক
ফিফা বিশ্বকাপের মঞ্চে নিজেদের অভিযান শুরু করেছিল ফেবারিটের তকমা নিয়েই। তবে মাঠের লড়াইয়ে সেই প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটাতে পারেনি পর্তুগাল। আফ্রিকার নবাগত প্রতিনিধি ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে এগিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত ১-১ গোলের ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর দলকে।
হিউস্টনের পূর্ণ দর্শকভর্তি স্টেডিয়ামে ম্যাচের শুরু থেকেই বলের নিয়ন্ত্রণ ও আক্রমণে আধিপত্য দেখায় পর্তুগাল। ম্যাচের মাত্র পঞ্চম মিনিটেই জোয়াও নেভেসের গোলে এগিয়ে যায় ইউরোপিয়ানরা। ডান প্রান্ত থেকে পেদ্রো নেতোর নিখুঁত ক্রসে দুর্দান্ত হেডে গোল করেন তরুণ মিডফিল্ডার।
এই গোলের মাধ্যমে ব্যক্তিগত এক মাইলফলকও স্পর্শ করেন নেভেস। ২১ বছর ২৬৩ দিন বয়সে বিশ্বকাপে পর্তুগালের হয়ে গোল করা তৃতীয় সর্বকনিষ্ঠ ফুটবলার হিসেবে নাম লেখান তিনি। তালিকায় তার ওপরে রয়েছেন কেবল ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ও গনসালো রামোস।
শুরুর ধাক্কা সামলে দ্রুত ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করে ডিআর কঙ্গো। মিডফিল্ডে শক্ত লড়াই এবং দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাকের মাধ্যমে কয়েকবার পর্তুগিজ রক্ষণে চাপ সৃষ্টি করে আফ্রিকার দলটি। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ের পঞ্চম মিনিটে সেই প্রচেষ্টার ফলও পায় তারা। বাঁ দিক থেকে আর্থার মাসুয়াকুর নিখুঁত ক্রসে ইয়োনে ভিসা শক্তিশালী হেডে বল জালে পাঠিয়ে সমতা ফেরান।
গোলটি ছিল বিশ্বকাপের ইতিহাসে ডিআর কঙ্গোর প্রথম গোল। ফলে শুধু স্কোরলাইন নয়, দেশটির ফুটবল ইতিহাসেও নতুন অধ্যায় যুক্ত হয় এই মুহূর্তে।
দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের গতি আরও বাড়ে। ৫৫ মিনিটে জোয়াও ক্যানসেলোর দৃষ্টিনন্দন বাইসাইকেল কিকে বল জালে জড়ালেও ভিএআর পর্যালোচনায় অফসাইড ধরা পড়ায় গোল বাতিল হয়। কয়েক মিনিট পরই উল্টো দিক থেকে পাল্টা আক্রমণে কেদ্রিক বাবাম্বুর জোরালো শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে। ভাগ্য সহায় হলে সেখানেই ম্যাচে এগিয়ে যেতে পারত ডিআর কঙ্গো।
ম্যাচজুড়ে পর্তুগালের সবচেয়ে বড় হতাশার নাম ছিলেন অধিনায়ক ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। প্রতিপক্ষের বক্সে কয়েকবার বল পেলেও গোলের সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি পাঁচবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী এই তারকা। ডিআর কঙ্গোর ডিফেন্ডাররা তাকে কার্যত ছায়াসঙ্গীর মতো অনুসরণ করায় নিজের স্বাভাবিক ছন্দ খুঁজে পাননি তিনি।
পরিসংখ্যানে বলের দখল, পাস এবং আক্রমণে এগিয়ে ছিল পর্তুগাল। তবে সুযোগ কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে ডিআর কঙ্গো ছিল অনেক বেশি কার্যকর। গোলরক্ষক ও রক্ষণভাগের দৃঢ়তায় আফ্রিকান দলটি শেষ পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এক পয়েন্ট নিশ্চিত করে।
এই ড্রয়ের ফলে গ্রুপ পর্বের শুরুতেই চাপে পড়ে গেল পর্তুগাল। নকআউট পর্বে জায়গা নিশ্চিত করতে এখন পরবর্তী ম্যাচগুলোতে জয় পাওয়ার বিকল্প নেই তাদের সামনে। অন্যদিকে বিশ্বকাপ অভিষেকে শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে পয়েন্ট আদায় করে আত্মবিশ্বাসে উজ্জীবিত ডিআর কঙ্গো। আফ্রিকার দলটি প্রমাণ করেছে, নামের জৌলুস নয়, মাঠের পারফরম্যান্সই শেষ কথা।
বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচ শেষে তাই সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে ডিআর কঙ্গোর সাহসী ফুটবল এবং পর্তুগালের অপূর্ণ প্রত্যাশা। ফেবারিটদের তালিকায় থাকা দলটির সামনে এখন ঘুরে দাঁড়ানোর চ্যালেঞ্জ, আর ডিআর কঙ্গোর সামনে ইতিহাস গড়ার নতুন স্বপ্ন।
Leave a Reply