তিস্তা টিভি ডেস্ক
দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় সমতা ও মূল্যায়ন পদ্ধতিতে একরূপতা আনতে এখন থেকে সব পাবলিক পরীক্ষায় দেশের সকল শিক্ষা বোর্ডে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ ঘোষণা দেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষার মানোন্নয়ন ও মূল্যায়ন পদ্ধতিকে আরও স্বচ্ছ, গ্রহণযোগ্য এবং যুগোপযোগী করতে সরকার বিভিন্ন সংস্কারমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এর অংশ হিসেবে পাবলিক পরীক্ষায় বোর্ডভিত্তিক প্রশ্নপত্রের পরিবর্তে অভিন্ন প্রশ্নপত্র প্রণয়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, শুধু পাঠ্যজ্ঞান নয়, শিক্ষার্থীদের নৈতিক ও সাংস্কৃতিক বিকাশের দিকেও সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। নতুন শিক্ষাব্যবস্থায় শিক্ষার্থীদের মানবিক মূল্যবোধ, দেশপ্রেম ও সামাজিক দায়িত্ববোধ গড়ে তোলার বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গানের শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে—এমন কোনো সিদ্ধান্ত মন্ত্রিসভার বৈঠকে গৃহীত হয়নি। এ বিষয়ে বিভিন্ন মাধ্যমে যে তথ্য প্রচারিত হয়েছে, তা সঠিক নয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষা ও প্রাথমিক গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, আগামী ২০ জুন ঢাকার আর্মি স্টেডিয়ামে প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে। তিনি জানান, ওই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উদ্বোধনী কার্যক্রমে অংশ নেবেন।
তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের আনন্দময় ও সৃজনশীল শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক চর্চা ও সহশিক্ষা কার্যক্রমের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসীসহ শিক্ষা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এই ঘোষণাকে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, অভিন্ন প্রশ্নপত্র চালু হলে মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় বৈষম্য কমবে এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র আরও সমতাভিত্তিক হবে।
Leave a Reply