কোচিং নির্ভরতা কমাতে নতুন কারিকুলাম কার্যকর হবে: শিক্ষামন্ত্রী
Reporter Name
Update Time :
Monday, June 15, 2026
17 Time View
তিস্তা টিভি ডেস্ক
শিক্ষার্থীদের কোচিংনির্ভর শিক্ষা থেকে বের করে এনে শ্রেণিকক্ষকেন্দ্রিক শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকার নতুন সিলেবাস ও কারিকুলাম প্রণয়নের কাজ করছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন। তিনি বলেন, এমন শিক্ষাক্রম তৈরি করা হচ্ছে যাতে বিদ্যালয়ের পাঠদানই শিক্ষার্থীদের জ্ঞান অর্জনের প্রধান মাধ্যম হয়ে ওঠে এবং অতিরিক্ত কোচিংয়ের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসে।
সোমবার (১৫ জুন) রাজধানীর মোহাম্মদপুরে আয়োজিত ‘প্রাথমিক শিক্ষা পদক প্রতিযোগিতা ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দেশের বিপুল জনসংখ্যাকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর করতে সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে শিক্ষা খাতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে এবং বাজেট বরাদ্দও বাড়ানো হয়েছে। তিনি জানান, শিক্ষার মানোন্নয়ন, দক্ষতা উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থানমুখী শিক্ষা বিস্তারের মাধ্যমে একটি জ্ঞানভিত্তিক ও উৎপাদনশীল প্রজন্ম গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য।
কারিগরি শিক্ষার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, সারা দেশে নির্মাণাধীন ৩২৯টি নতুন টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের কাজ আগামী দুই বছরের মধ্যে শেষ হবে। এসব প্রতিষ্ঠান চালু হলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কারিগরি শিক্ষার সুযোগ আরও বিস্তৃত হবে এবং তরুণদের কর্মদক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি শিল্পখাতের জন্য প্রয়োজনীয় জনবল তৈরি হবে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান বিশ্বে শুধু সনদনির্ভর শিক্ষা নয়, দক্ষতানির্ভর শিক্ষা সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। সে কারণে সরকার সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার সম্প্রসারণে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে কর্মমুখী শিক্ষার বিকল্প নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
শিক্ষাক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের সেশনজট সমস্যার সমাধানে সরকার কাজ করছে উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ২০২৮ সালের মধ্যে এমন একটি সমন্বিত ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষার পর অযথা দীর্ঘ সময় অপেক্ষা না করে দ্রুত পরবর্তী শিক্ষাস্তরে যেতে পারে। এর ফলে কলেজ শেষ করেই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি ও পাঠদান শুরু করা সম্ভব হবে।
পরীক্ষার ফল প্রকাশ নিয়েও তিনি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেন। মন্ত্রী জানান, চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল পরীক্ষা শেষ হওয়ার দুই মাসের মধ্যেই প্রকাশের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আগামী ২০ জুলাইয়ের মধ্যে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে।
শিক্ষার্থীদের কল্যাণে সরকারের নতুন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, আগামী জুলাই মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে দেশব্যাপী শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস বিতরণ শুরু হবে। পর্যায়ক্রমে এই কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে।
পাঠ্যপুস্তক বিতরণ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ডিসেম্বরের মধ্যেই দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সংশোধিত ও পরিমার্জিত নতুন বই পৌঁছে দেওয়া হবে। ফলে নতুন বছরের শুরু থেকেই শিক্ষার্থীরা সময়মতো পাঠ্যবই হাতে পাবে এবং শিক্ষাকার্যক্রম নির্বিঘ্নে শুরু করা সম্ভব হবে।
শিক্ষার্থীদের সার্বিক বিকাশের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, শিক্ষা শুধু পাঠ্যবইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না। খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, বিতর্ক, বিজ্ঞানচর্চা এবং অন্যান্য সহশিক্ষা কার্যক্রমের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বগুণ, সৃজনশীলতা ও আত্মবিশ্বাস গড়ে তুলতে হবে। একটি আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে পাঠদানের পাশাপাশি এসব কার্যক্রম সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
অনুষ্ঠানে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, অভিভাবক এবং বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।
Leave a Reply