মো: সাজিদ পিয়াল সিনিয়র রিপোর্টার
টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আকস্মিক পরিদর্শন করে হাসপাতালের অব্যবস্থাপনা, অনিয়ম, পরিচ্ছন্নতার সংকট এবং চিকিৎসাসেবার নিম্নমান নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি।
বুধবার (১৭ জুন) দুপুর ২টার দিকে তিনি ঢাকা থেকে সরাসরি হাসপাতালে পৌঁছে বিভিন্ন ওয়ার্ড, জরুরি বিভাগ, বহির্বিভাগ, রোগীসেবা কেন্দ্র এবং শৌচাগার পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি রোগী ও তাদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে চিকিৎসাসেবা, ওষুধ সরবরাহ, পরিচ্ছন্নতা এবং হাসপাতালের সার্বিক ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।
পরিদর্শনকালে হাসপাতালের মোট ৩৩৫ জন চিকিৎসক, নার্স ও কর্মচারীর মধ্যে অর্ধশতাধিকের বেশি কর্মীকে দায়িত্বস্থলে অনুপস্থিত পাওয়া যায় বলে জানা গেছে। এতে ক্ষুব্ধ প্রতিমন্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. মো. কামরুল কিবরিয়াকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে আগামী ১৫ থেকে ২০ দিনের জন্য হাসপাতালের সব ধরনের ছুটি বাতিলের নির্দেশ প্রদান করেন।
তিনি কঠোর ভাষায় বলেন, “যাদের এখানে চাকরি করতে ইচ্ছা নেই, তারা অন্যত্র চলে যেতে পারে। জনগণের চিকিৎসাসেবায় কোনো ধরনের গাফিলতি সহ্য করা হবে না।”
প্রতিমন্ত্রীর আকস্মিক উপস্থিতির খবর ছড়িয়ে পড়লে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও স্বজনরা তাকে ঘিরে ধরেন এবং চিকিৎসক সংকট, দালাল চক্রের দৌরাত্ম্য, ওষুধের অভাব, সেবায় হয়রানি ও দীর্ঘদিনের ভোগান্তির নানা অভিযোগ তুলে ধরেন। এসব অভিযোগ শুনে তিনি হাসপাতালের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে গভীর অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, “একটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অবস্থা এমন হতে পারে না। বর্তমান পরিস্থিতি জনস্বাস্থ্যসেবার জন্য উদ্বেগজনক এবং দ্রুত সংস্কার প্রয়োজন।”
পরিদর্শনের সময় হাসপাতালের অস্বাস্থ্যকর শৌচাগার ও নোংরা পরিবেশ দেখে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভর্ৎসনা করেন এবং হাসপাতালের পরিচালক ডা. মোহাম্মদ আব্দুল কুদ্দুসের কাছে সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে ব্যাখ্যা চান। পাশাপাশি দ্রুত সেবার মান ও পরিবেশ উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেন।
এ সময় তিনি আনসার সদস্যদের সঙ্গেও কথা বলেন এবং হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে দালাল ও বহিরাগতদের অবাধ প্রবেশ বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়।
তিনি পুলিশ প্রশাসন ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনার নির্দেশনাও দেন, যাতে হাসপাতালের শৃঙ্খলা ও সেবার মান নিশ্চিত করা যায়।
স্থানীয়রা আশা করছেন, এই আকস্মিক পরিদর্শন ও কঠোর নির্দেশনার ফলে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের দীর্ঘদিনের অনিয়ম-অব্যবস্থাপনা দূর হয়ে সাধারণ রোগীরা উন্নত স্বাস্থ্যসেবা পাবেন।
Leave a Reply