ক্রীড়া ডেস্ক
২০২৬ বিশ্বকাপ ফাইনালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি মুহূর্ত সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। স্পেন ও আর্জেন্টিনার মধ্যকার শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচ শুরুর আগে আসল বিশ্বকাপ ট্রফি হাতে নেওয়া এবং স্পর্শ করার ভিডিও ছড়িয়ে পড়তেই অনেকেই দাবি করেন, তিনি নাকি ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ট্রফি ছুঁয়ে অলিখিত একটি নিয়ম ভেঙেছেন। তবে ফিফার নিয়ম ও প্রটোকল বলছে, এমন দাবি সঠিক নয়।
নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনাল দেখতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বকাপের অন্যতম আয়োজক দেশ হওয়ায় তার উপস্থিতি ছিল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে স্টেডিয়ামে প্রবেশের সময় দর্শক, সাংবাদিক ও কর্মকর্তাদের অতিরিক্ত নিরাপত্তা তল্লাশির মধ্য দিয়ে যেতে হয়, যা নিয়ে কিছুটা ভোগান্তিরও সৃষ্টি হয়।
ম্যাচের শুরুতে ব্রাজিলের কিংবদন্তি ফুটবলার রোনালদো নাজারিও ট্রাম্পের হাতে আসল বিশ্বকাপ ট্রফি তুলে দেন। ট্রাম্প ট্রফিটি হাতে নিয়ে কয়েক মুহূর্ত পর্যবেক্ষণ করেন, আলতোভাবে স্পর্শ করেন এবং পরে রোনালদোর সঙ্গে ছবি তোলেন। সেই দৃশ্যই মুহূর্তের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
এরপরই শুরু হয় বিতর্ক। অনেক ব্যবহারকারী মন্তব্য করেন, বিশ্বকাপ ট্রফি স্পর্শ করার অধিকার শুধু বিশ্বচ্যাম্পিয়ন খেলোয়াড়দেরই রয়েছে। কেউ কেউ আবার প্রশ্ন তোলেন, একজন রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে ট্রাম্প কি ফিফার নিয়ম ভঙ্গ করেছেন?
তবে ফিফার আনুষ্ঠানিক প্রটোকলে এমন কোনো বিধান নেই যে কেবল বিশ্বকাপজয়ীরাই মূল ট্রফি স্পর্শ করতে পারবেন। ফিফার নির্দেশিকা অনুযায়ী, নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রপ্রধান, ফিফার শীর্ষ কর্মকর্তা, বিশ্বকাপজয়ী ফুটবলার এবং সংস্থার অনুমোদিত কিছু বিশেষ অতিথিকে আসল ট্রফি স্পর্শ করার অনুমতি দেওয়া হয়। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের ট্রফি স্পর্শ করা নিয়মবহির্ভূত নয়।
বিশ্বকাপ ট্রফিকে ঘিরে কঠোর নিরাপত্তা ও সংরক্ষণ ব্যবস্থা বরাবরই অনুসরণ করে ফিফা। ট্রফিটি ১৮ ক্যারেট স্বর্ণ দিয়ে তৈরি, যার ওজন প্রায় ৬ দশমিক ১ কেজি এবং উচ্চতা ৩৬ দশমিক ৮ সেন্টিমিটার। মূল ট্রফিটি স্থায়ীভাবে কোনো দেশ নিজের কাছে রাখতে পারে না। বিশ্বকাপজয়ী দল ট্রফি হাতে উদযাপন করলেও পরে সেটি ফিফার কাছেই ফেরত দিতে হয়। চ্যাম্পিয়ন দলকে স্মারক হিসেবে দেওয়া হয় ট্রফির একটি বিশেষ প্রতিরূপ।
বিশ্বকাপ ট্রফিকে কেন্দ্র করে এর আগেও একাধিক বিতর্ক হয়েছে। ২০১৪ সালে ব্রাজিল বিশ্বকাপ শেষে জার্মানির শিরোপা উদযাপনে জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী রিহানা ট্রফি হাতে ছবি তোলেন, যা নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়। যদিও তিনি সেই সময় বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দলের আমন্ত্রিত অতিথি ছিলেন।
সবচেয়ে বড় বিতর্ক তৈরি হয় ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের পর। ফাইনাল শেষে মাঠে নেমে বিশ্বকাপ ট্রফি হাতে নিয়ে ছবি তোলেন তুর্কি শেফ নুসরেত গকচে, যিনি ‘সাল্ট বে’ নামে পরিচিত। শুধু ট্রফি স্পর্শই নয়, তিনি আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের সঙ্গে বারবার ছবি তোলার চেষ্টা করেন এবং উদযাপনের মধ্যে হস্তক্ষেপ করেন। ঘটনাটি ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। পরে ফিফা জানায়, তিনি অনুমোদিত প্রটোকল ভঙ্গ করেছিলেন এবং বিষয়টি তদন্ত করা হয়।
ফলে ট্রাম্পের ট্রফি স্পর্শ করা নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে যত আলোচনা-সমালোচনাই হোক না কেন, ফিফার বিদ্যমান নিয়ম অনুযায়ী তিনি কোনো বিধি লঙ্ঘন করেননি। বরং রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে বিশেষ অনুমতির আওতায় থেকেই তিনি বিশ্বকাপের আসল ট্রফি স্পর্শ করেছেন।
Leave a Reply