স্পোর্টস ডেস্ক
বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে গোলের বন্যা, হ্যাটট্রিক আর একের পর এক রেকর্ডে রোমাঞ্চ ছড়িয়েছে মিয়ামি স্টেডিয়াম। নাটকীয় এই ম্যাচে ফ্রান্সকে ৬-৪ গোলে হারিয়ে ব্রোঞ্জ পদক জিতেছে ইংল্যান্ড। তবে দলের পরাজয়ের রাতেও ব্যক্তিগত অর্জনে ইতিহাস গড়েছেন ফরাসি অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জোড়া গোল করে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় শীর্ষে উঠে গেছেন এমবাপ্পে। তার বিশ্বকাপ ক্যারিয়ারের মোট গোলসংখ্যা এখন ২২, যা লিওনেল মেসির ২১ গোলকে ছাড়িয়ে গেছে।
ম্যাচের প্রথমার্ধে তুলনামূলকভাবে ছন্দহীন ছিল ফ্রান্স। তবে বিরতির পর আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে শুরু করেন এমবাপ্পেরা। ৪৮তম মিনিটে নিজের প্রথম গোল করে দলকে ম্যাচে ফেরানোর চেষ্টা করেন ফরাসি অধিনায়ক। এরপর ৬৬তম মিনিটে দ্বিতীয় গোলটি করে বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ড নিজের নামে লিখে নেন।
এই কীর্তির মাধ্যমে এমবাপ্পে বিশ্বকাপের প্রায় সব ধাপেই গোল করার অনন্য নজির গড়েছেন। গ্রুপ পর্ব থেকে শুরু করে নকআউট, রাউন্ড অব ৩২, রাউন্ড অব ১৬, কোয়ার্টার ফাইনাল, তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ এবং ফাইনাল—সব পর্যায়েই তার গোল রয়েছে। তবে তিনটি বিশ্বকাপ খেলেও এখন পর্যন্ত সেমিফাইনালে গোল না পাওয়াটাই তার একমাত্র অপূর্ণতা।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জোড়া গোল এমবাপ্পেকে শুধু নতুন রেকর্ডই এনে দেয়নি, তাকে তুলে দিয়েছে গোল্ডেন বুটের লড়াইয়েরও শীর্ষে। এখন পর্যন্ত ১০ গোল ও ৪ অ্যাসিস্ট নিয়ে সবার আগে রয়েছেন রিয়াল মাদ্রিদের এই তারকা।
অন্যদিকে আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি ৮ গোল ও ৪ অ্যাসিস্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে আছেন। তৃতীয় স্থানে নরওয়ের আর্লিং হালান্ড, যার গোল ৭টি। একই সংখ্যক গোল করেছেন ইংল্যান্ডের জুড বেলিংহাম, তবে একটি অ্যাসিস্ট থাকায় তিনি চতুর্থ স্থানে। ষষ্ঠ স্থানে রয়েছেন ফ্রান্সের উসমান দেম্বেলে।
গোল্ডেন বুটের বর্তমান তালিকা:
১. কিলিয়ান এমবাপ্পে — ১০ গোল, ৪ অ্যাসিস্ট
২. লিওনেল মেসি — ৮ গোল, ৪ অ্যাসিস্ট
৩. আর্লিং হালান্ড — ৭ গোল
৪. জুড বেলিংহাম — ৭ গোল, ১ অ্যাসিস্ট
৫. হ্যারি কেইন — ৬ গোল, ১ অ্যাসিস্ট
৬. উসমান দেম্বেলে — ৬ গোল, ২ অ্যাসিস্ট
এবারের বিশ্বকাপের ফাইনাল তাই শুধু শিরোপা নির্ধারণের ম্যাচ নয়, ব্যক্তিগত রেকর্ডের লড়াইও। রোববার নিউ জার্সিতে স্পেনের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা। ৩৯ বছর বয়সী লিওনেল মেসির সামনে থাকবে একদিকে দলকে টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন করার সুযোগ, অন্যদিকে গোল্ডেন বুট এবং বিশ্বকাপের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার আসন পুনরুদ্ধারের চ্যালেঞ্জ।
বর্তমান সমীকরণ অনুযায়ী, এমবাপ্পেকে ছাড়িয়ে গোল্ডেন বুট জিততে হলে ফাইনালে স্পেনের বিপক্ষে মেসিকে অন্তত দুটি গোল করার পাশাপাশি একটি অ্যাসিস্টও করতে হবে। সেই লক্ষ্য পূরণ করতে পারলে শুধু ব্যক্তিগত পুরস্কারই নয়, বিশ্বকাপ ইতিহাসের আরেকটি অনন্য রেকর্ডও নিজের করে নিতে পারবেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা।
এখন ফুটবলপ্রেমীদের সব নজর নিউ জার্সির ফাইনালের দিকে। সেখানে একদিকে থাকবে আর্জেন্টিনার শিরোপা ধরে রাখার লড়াই, অন্যদিকে মেসির সামনে থাকবে ইতিহাস নতুন করে লেখার সুবর্ণ সুযোগ।
Leave a Reply