আন্তর্জাতিক ডেস্ক
নিহত মার্কিন সেনাদের সম্মান জানাতে ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্র ‘খুব কঠোরভাবে’ হামলা চালাচ্ছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিশ্বকাপ ফাইনাল শেষে ওয়াশিংটনে ফেরার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।
ট্রাম্প বলেন, “আজ রাতেও আমরা তাদের ওপর খুব কঠোর হামলা চালিয়েছি। আমাদের মহান দেশপ্রেমিকদের সম্মানে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।” হামলায় মার্কিন সেনাদের হতাহতের বিষয়ে তিনি জানান, নিহতের সংখ্যা সম্ভবত তিনজন। একই সঙ্গে তিনি এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে বলেন, “আমরা এই ঘটনায় খুবই মর্মাহত।”
মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও দাবি করেন, নিহত সেনারা এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য নিয়ে দায়িত্ব পালন করছিলেন, যার উদ্দেশ্য ছিল ইরান যেন কখনোই পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হতে না পারে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ধারাবাহিক বিমান অভিযান চালানো হয়েছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)-এর তথ্য অনুযায়ী, এসব হামলায় ইরানের সামরিক কমান্ড সেন্টার, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, উপকূলীয় নজরদারি অবকাঠামো, নৌ সক্ষমতা, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন উৎক্ষেপণ কেন্দ্র এবং যোগাযোগ নেটওয়ার্ককে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
সেন্টকমের এক বিবৃতিতে বলা হয়, স্থানীয় সময় ১৯ জুলাই রাত ১০টার দিকে ওই দিনের অভিযান শেষ হয়। মার্কিন বাহিনীর দাবি, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ ও বেসামরিক নাবিকদের ওপর সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলা এবং ইরানের সামরিক সক্ষমতা কমানোর লক্ষ্যেই এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাদের বাহিনী বর্তমানে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী ভবিষ্যতে আরও অভিযান চালানোর জন্য প্রস্তুত রয়েছে।
তবে ইরানের পক্ষ থেকে এসব হামলা নিয়ে কোনো বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে কি না, তাৎক্ষণিকভাবে তা স্পষ্ট নয়। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের দীর্ঘদিনের উত্তেজনার মধ্যে নতুন করে এই সামরিক তৎপরতা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির মতো গুরুত্বপূর্ণ নৌপথকে ঘিরে যেকোনো সংঘাত বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও আঞ্চলিক নিরাপত্তায় বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
Leave a Reply