আন্তর্জাতিক ডেস্ক
চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের ওপর সামরিক অভিযান শুরু করে। এর জবাবে ইরানও পাল্টা হামলা চালায়। পরবর্তীতে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও তা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র এককভাবে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালিয়ে যেতে থাকে।
যুদ্ধ শুরুর পর থেকে বিভিন্ন হামলা ও দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৪৪৬ জন মার্কিন সেনা হতাহত হয়েছেন। এর মধ্যে ১৬ জন নিহত হয়েছেন, আহত হয়েছেন ৪৩০ জনের বেশি সেনা। এছাড়া একজন সেনা এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।
মার্কিন সেনাদের হতাহতের উল্লেখযোগ্য ঘটনাগুলো হলো—
যুদ্ধ শুরুর পর প্রথম প্রাণহানির ঘটনা ঘটে ১ মার্চ। ওই দিন ইরানের একটি ড্রোন কুয়েতের একটি বেসামরিক বন্দরে হামলা চালালে ছয়জন মার্কিন সেনা নিহত হন।
একই দিনে সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে আরেকটি হামলায় এক মার্কিন সেনা গুরুতর আহত হন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এক সপ্তাহের বেশি সময় পর তার মৃত্যু হয়। এতে নিহত মার্কিন সেনার সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় সাতজনে।
এরপর ১২ মার্চ ইরাকে মার্কিন সামরিক অভিযানে ব্যবহৃত একটি কেসি-১৩৫ আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান বিধ্বস্ত হয়। এতে ছয়জন মার্কিন সেনা নিহত হন।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়, দুর্ঘটনার আগে আরেকটি বিমানের সঙ্গে একটি অনির্দিষ্ট ঘটনা ঘটেছিল। তবে তদন্তে শত্রুপক্ষের হামলা কিংবা নিজেদের বাহিনীর ভুলবশত গুলিবর্ষণের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
সর্বশেষ ১ জুলাই আরব সাগরে একটি সামরিক হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হলে মার্কিন নৌবাহিনীর একজন পাইলট নিহত হন। নৌবাহিনী জানিয়েছে, ঘটনাটি শত্রুপক্ষের হামলার কারণে ঘটেছে—এমন কোনো প্রমাণ তাদের কাছে নেই।
এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে জর্ডানে মার্কিন বাহিনীর ওপর হামলায় আরও দুই সেনা নিহত হওয়ায় ইরান সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে মোট নিহত মার্কিন সেনার সংখ্যা ১৬ জনে পৌঁছেছে।
যুদ্ধ চলাকালে আহতের সংখ্যা ৪৩০ ছাড়িয়েছে। তাদের মধ্যে অনেকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা এবং বিভিন্ন সামরিক অভিযানে আহত হয়েছেন। নিখোঁজ থাকা এক সেনার সন্ধানে অনুসন্ধান কার্যক্রম এখনও চলছে।
বিশ্লেষকদের মতে, হতাহতের ক্রমবর্ধমান সংখ্যা ইরানের সঙ্গে সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ব্যয় ও মানবিক ক্ষয়ক্ষতির চিত্র তুলে ধরছে। একই সঙ্গে সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে মার্কিন প্রশাসনের ওপর অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপও বাড়তে পারে।
Leave a Reply