স্পোর্টস ডেস্ক
বিশ্বকাপের ‘এল’ গ্রুপে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে ৪-২ গোলের জয় তুলে নিয়েছে ইংল্যান্ড। তবে ম্যাচের সবচেয়ে আলোচিত নাম হ্যারি কেইন। জোড়া গোল করে শুধু দলকে জয়ই উপহার দেননি, নিজের নামও তুলেছেন বিশ্বকাপের রেকর্ডবুকে।
ম্যাচের ১২তম মিনিটে পেনাল্টি থেকে ইংল্যান্ডকে এগিয়ে দেন অধিনায়ক কেইন। যদিও প্রথম শটটি ঠেকিয়ে দেন ক্রোয়েশিয়ার গোলরক্ষক ডমিনিক লিভাকোভিচ। তবে গোললাইন ছেড়ে আগেভাগে এগিয়ে আসায় ভিএআর পর্যালোচনার পর পুনরায় পেনাল্টি নেওয়ার সুযোগ পান ইংলিশ স্ট্রাইকার। দ্বিতীয় চেষ্টায় সফল হয়ে বিশ্বকাপে নিজের পঞ্চম পেনাল্টি গোলটি করেন তিনি।
এর ফলে বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বাধিক পেনাল্টি গোলের মালিক বনে যান কেইন। পেছনে ফেলেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা লিওনেল মেসিসহ ইউসেবিও, গ্যাব্রিয়েল বাতিস্তুতা ও ডাচ কিংবদন্তি রব রেনসেনব্রিঙ্ককে, যাদের প্রত্যেকের ছিল চারটি করে পেনাল্টি গোল।
শুধু তাই নয়, এই গোলের মাধ্যমে ডেভিড বেকহামের পর দ্বিতীয় ইংলিশ ফুটবলার হিসেবে তিনটি ভিন্ন বিশ্বকাপে গোল করার কীর্তি গড়েন কেইন। ২০১৮ সালে রাশিয়া বিশ্বকাপে গোল্ডেন বুট জেতা এই ফরোয়ার্ড ২০২২ কাতার বিশ্বকাপেও গোল করেছিলেন।
প্রথমার্ধের শেষদিকে আরও একবার জ্বলে ওঠেন বায়ার্ন মিউনিখ তারকা। ৪২তম মিনিটে হেড থেকে দারুণ এক গোল করে ব্যবধান বাড়ান তিনি। সেই গোলটি ছিল বিশ্বকাপে তার দশম গোল, যা ইংল্যান্ডের হয়ে সর্বোচ্চ গোলের যৌথ রেকর্ড।
এতদিন ইংল্যান্ডের হয়ে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ১০ গোলের রেকর্ড এককভাবে ধরে রেখেছিলেন গ্যারি লিনেকার। ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোল করে তার পাশে জায়গা করে নিলেন কেইন। আগামী ম্যাচেই রেকর্ডটি নিজের করে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে ইংলিশ অধিনায়কের সামনে।
জাতীয় দলের ইতিহাসেও কেইনের আধিপত্য এখন স্পষ্ট। ২০২৩ সালেই ওয়েইন রুনির ৫৩ গোলের রেকর্ড ভেঙে ইংল্যান্ডের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা হন তিনি। বর্তমানে জাতীয় দলের জার্সিতে তার গোলসংখ্যা ৮১, যা দ্বিতীয় স্থানে থাকা রুনির চেয়ে ২৮টি বেশি।
বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের হয়ে সবচেয়ে বেশি গোল, টুর্নামেন্ট ইতিহাসে সর্বাধিক পেনাল্টি গোল এবং তিনটি ভিন্ন বিশ্বকাপে গোল—এক ম্যাচেই এমন একাধিক মাইলফলক ছুঁয়ে হ্যারি কেইন আবারও প্রমাণ করলেন, ইংল্যান্ডের আক্রমণভাগের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য নাম তিনিই।
Leave a Reply