ক্রীড়া ডেস্ক
বিশ্বকাপ মঞ্চে দুর্দান্ত ছন্দে থাকা কিলিয়ান এমবাপ্পে আবারও আলোচনার কেন্দ্রে। ইরাকের বিপক্ষে ফ্রান্সের ৩-০ গোলের জয়ে জোড়া গোল করে দলের নকআউট পর্ব নিশ্চিত করার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি কথা বলেন লিওনেল মেসিকে নিয়েও। তবে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, অন্য কোনো ফুটবলারের পারফরম্যান্স নয়, তার পুরো মনোযোগ নিজের দল এবং মাঠের দায়িত্বে।
ইরাকের বিপক্ষে ম্যাচে দুটি গোল করে বিশ্বকাপে নিজের গোলসংখ্যা আরও বাড়িয়েছেন এমবাপ্পে। একই দিনে মেসিও জোড়া গোল করে নতুন এক মাইলফলক স্পর্শ করেন। বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় শীর্ষে উঠে আসা আর্জেন্টাইন অধিনায়ককে নিয়ে প্রশ্ন করা হলে এমবাপ্পে প্রশংসা করলেও জানান, তিনি ব্যক্তিগত প্রতিযোগিতার চেয়ে দলীয় সাফল্যকেই বেশি গুরুত্ব দেন।
ফরাসি এই ফরোয়ার্ড বলেন, মেসির মতো খেলোয়াড়ের গোল করা নতুন কিছু নয়। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি এটি করে আসছেন এবং সামনেও করবেন। তবে অন্য কেউ কী করছে, সেদিকে নজর রাখতে গেলে নিজের কাজ থেকে মনোযোগ সরে যেতে পারে। তাই তার লক্ষ্য কেবল ফ্রান্সকে জেতানো এবং মাঠে নিজের সেরাটা দেওয়া।
এদিকে ইরাকের বিপক্ষে ম্যাচটি এমবাপ্পের জন্য ছিল বিশেষ এক উপলক্ষও। এটি ছিল তার ক্যারিয়ারের শততম আন্তর্জাতিক ম্যাচ। মাত্র ২৭ বছর বয়সে এই মাইলফলকে পৌঁছে তিনি ফরাসি ফুটবলের অন্যতম সফল তারকাদের কাতারে নিজের অবস্থান আরও শক্ত করেছেন। বিশ্বকাপে তার গোলসংখ্যাও এখন ১৬, যা কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসার রেকর্ডের সমান। মেসির চেয়েও তিনি খুব বেশি পিছিয়ে নেই।
চলতি আসরে শুরু থেকেই দুর্দান্ত ফর্মে আছেন এমবাপ্পে। টানা দুই ম্যাচে জোড়া গোল করে তিনি গোল্ডেন বুটের দৌড়েও এগিয়ে রয়েছেন। নিজের পারফরম্যান্স নিয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে কঠোর পরিশ্রমের ফলই মাঠে দেখা যাচ্ছে। মৌসুমের মাঝপথে গুরুতর চোটে পড়লেও পুনর্বাসন শেষে তিনি আবারও শারীরিক ও মানসিকভাবে সেরা অবস্থায় ফিরেছেন।
বর্তমানে রিয়াল মাদ্রিদ-এর হয়ে খেলছেন এমবাপ্পে। ক্লাব পর্যায়ে সফল একটি মৌসুম কাটানোর পর বিশ্বকাপেও সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে চান তিনি। তার বিশ্বাস, ব্যক্তিগত অর্জনের চেয়ে দলের সাফল্যই শেষ পর্যন্ত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
ম্যাচটি আরেকটি কারণে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়া শহরে বৈরী আবহাওয়া ও প্রবল ঝড়ের কারণে দীর্ঘ সময় খেলা বন্ধ রাখতে হয়। প্রায় দুই ঘণ্টার বিরতি খেলোয়াড়দের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। এমবাপ্পে জানান, এত দীর্ঘ সময় ড্রেসিংরুমে অপেক্ষা করার পর মনোযোগ ও ম্যাচের তীব্রতা ধরে রাখা সহজ ছিল না। তবুও পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে তারা মাঠে ফিরে নিজেদের লক্ষ্য পূরণ করতে সক্ষম হয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান সময়ে বিশ্ব ফুটবলের দুই সবচেয়ে বড় নাম মেসি ও এমবাপ্পেকে ঘিরে তুলনা চললেও ফরাসি তারকা ব্যক্তিগত দ্বৈরথের চেয়ে নিজের খেলায় মনোযোগী থাকতে চান। আর সেই মনোযোগই তাকে ধারাবাহিকভাবে সাফল্যের পথে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। বিশ্বকাপের শুরুতেই যে ছন্দ তিনি দেখিয়েছেন, তাতে শিরোপার অন্যতম দাবিদার হিসেবে ফ্রান্সকে বিবেচনা করছেন ফুটবল বিশেষজ্ঞরা।
Leave a Reply