আন্তর্জাতিক ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্পর্ক নতুন কূটনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছেন, ইরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচির ওপর “সর্বোচ্চ স্তরের আন্তর্জাতিক পরিদর্শন” গ্রহণে নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, এই ধরনের কঠোর পরিদর্শনের শর্তে রাজি হওয়াটাই যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনায় অগ্রগতির মূল ভিত্তি। তার ভাষায়, এই শর্তে সম্মতি না এলে দুই দেশের মধ্যে কোনো ধরনের সমঝোতা বা আলোচনা এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হতো না।
ট্রাম্প আরও দাবি করেন, ইরান শুধু পারমাণবিক তদারকিতেই নয়, বরং বৃহত্তর অর্থনৈতিক ও কৌশলগত কিছু ছাড় দিতেও সম্মত হয়েছে। এর অংশ হিসেবে তিনি হরমুজ প্রণালি নিয়ে একটি নতুন অবস্থানের কথা জানান। তার মতে, প্রণালিটি উন্মুক্ত রাখার বিষয়ে তিনি সম্মতি দিয়েছেন এবং বর্তমান পরিস্থিতিতে নতুন করে অবরোধ আরোপের সম্ভাবনা খুবই কম।
তবে একই সঙ্গে সতর্কবার্তাও দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, পরিস্থিতি পরিবর্তিত হলে যুক্তরাষ্ট্র প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত রয়েছে এবং এ জন্য সামরিক বাহিনীকে প্রস্তুত অবস্থায় রাখা হয়েছে। হরমুজ প্রণালি ঘিরে যেকোনো উত্তেজনা মোকাবিলায় মার্কিন নৌবাহিনীর উপস্থিতি বজায় থাকবে বলে ইঙ্গিত দেন তিনি।
অর্থনৈতিক ইস্যুতে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের অবরুদ্ধ অর্থসম্পদ ব্যবহারের ক্ষেত্রেও নতুন কাঠামো তৈরি করা হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এসব তহবিল এখন যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণাধীন বিশেষ এসক্রো অ্যাকাউন্টে রাখা হবে, যা থেকে সরাসরি নগদ অর্থ উত্তোলনের সুযোগ থাকবে না।
তিনি আরও বলেন, এই অর্থ কেবল মানবিক খাতে ব্যয় করা যাবে—বিশেষ করে খাদ্য ও ওষুধ কেনার ক্ষেত্রে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি পণ্যের সঙ্গে এই অর্থ ব্যবহারের একটি শর্তও যুক্ত করা হয়েছে, যার মাধ্যমে ভুট্টা, গম ও সয়াবিনসহ আমেরিকান কৃষিপণ্য ক্রয়কে উৎসাহিত করা হবে।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই মন্তব্যগুলো এমন এক সময়ে এসেছে যখন মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ও কূটনৈতিক আলোচনার ভারসাম্য অত্যন্ত সংবেদনশীল অবস্থায় রয়েছে। যদিও ইরানের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া এখনও পাওয়া যায়নি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পারমাণবিক কর্মসূচি, হরমুজ প্রণালি এবং অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা—এই তিনটি ইস্যু একসঙ্গে যুক্ত হওয়ায় ভবিষ্যৎ আলোচনা আরও জটিল হলেও একই সঙ্গে নতুন সমঝোতার সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে।
Leave a Reply