1. tistanewsbd2017@gmail.com : Tista24 :
June 23, 2026, 2:11 pm

মাত্র ৫-৭ খাতেই রপ্তানিতে আসতে পারে বড় পরিবর্তন: বাণিজ্যমন্ত্রী

Reporter Name
  • Update Time : Tuesday, June 23, 2026
  • 19 Time View

তিস্তা টিভি ডেস্ক

বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের বর্তমান ধারা বদলে দিয়ে আগামী বছরগুলোতে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তার মতে, সম্ভাবনাময় কয়েকটি খাতকে লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তা ও পরিকল্পনার আওতায় আনতে পারলে দেশের রপ্তানি আয় ৫০ থেকে ৫৫ বিলিয়ন ডলারের বর্তমান অবস্থান থেকে প্রায় ১৫০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা সম্ভব।

মঙ্গলবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে আয়োজিত একটি কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন। “বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় বেসরকারি খাতগুলোর প্রতিযোগিতা সক্ষমতা মূল্যায়ন” শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদনের আলোকে প্রস্তাবিত প্রকল্প নিয়ে এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের অর্থনীতিকে নতুন স্তরে নিয়ে যেতে হলে তৈরি পোশাক খাতের পাশাপাশি সম্ভাবনাময় অন্যান্য শিল্পখাতেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে। সুনির্দিষ্ট নীতিগত সহায়তা, গবেষণা কার্যক্রম সম্প্রসারণ, দক্ষ জনবল তৈরি এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে এসব খাত আন্তর্জাতিক বাজারে শক্ত অবস্থান গড়ে তুলতে সক্ষম হবে।

তিনি জানান, বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের জন্য প্রয়োজনীয় সব শর্ত পূরণ করেছে। তবে উত্তরণের পর বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা এবং রপ্তানি প্রবৃদ্ধির গতি বজায় রাখাই হবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এজন্য শিল্পখাতে উদ্ভাবন, প্রযুক্তি অভিযোজন এবং দক্ষতা উন্নয়নের বিকল্প নেই।

প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রিতা দেশের উন্নয়ন কার্যক্রমের অন্যতম বড় বাধা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সময়োপযোগী প্রকল্প গ্রহণের পাশাপাশি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সেগুলোর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। পরিবর্তিত বৈশ্বিক বাস্তবতার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার সক্ষমতাও থাকতে হবে।

লেদার ও লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং খাতের উন্নয়ন প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, এ দুই খাতে বিদ্যমান অবকাঠামোকে আন্তর্জাতিক মানের দক্ষতা উন্নয়ন কেন্দ্রে রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বিদেশি অভিজ্ঞ প্রতিষ্ঠানের সহায়তায় প্রশিক্ষণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধির কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনাও রয়েছে।

পাট খাতের সম্ভাবনার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, কাঁচা পাট রপ্তানির পরিবর্তে মূল্য সংযোজিত পাটপণ্য ও জুট-ভিত্তিক ফ্যাব্রিক উৎপাদনে মনোযোগ দিলে আয় বহুগুণ বাড়ানো সম্ভব। এ লক্ষ্যে গবেষণা ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অংশীদারত্ব জোরদার করা হবে। চীনের সঙ্গে যৌথ গবেষণা ও উদ্ভাবনী উদ্যোগ নিয়েও কাজ চলছে বলে জানান তিনি।

কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খান। তিনি জানান, এলডিসি উত্তরণ-পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং রপ্তানি সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য প্রায় তিন হাজার কোটি টাকার একটি সমন্বিত প্রকল্প গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সচিব বলেন, প্রকল্পের পরবর্তী ধাপে বেসরকারি খাতের বাস্তব অভিজ্ঞতা, চাহিদা এবং সুপারিশের ভিত্তিতে খাতভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হবে। ব্যবসায়ী সংগঠন, উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতামত প্রকল্পের চূড়ান্ত রূপরেখা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তিনি আরও বলেন, ব্যবসা সহজীকরণ, ডিজিটাল সেবা সম্প্রসারণ, নীতিগত সংস্কার এবং প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সরলীকরণের মাধ্যমে একটি কার্যকর ও টেকসই রপ্তানি সহায়ক কাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে এবং রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর সম্পৃক্ততায় প্রকল্প বাস্তবায়নের বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।

কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন র‌্যাপিডের চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক। এছাড়া ইসিফোর-জে প্রকল্পের পরিচালক সেখ মোহাম্মদ আব্দুর রহমান, বিশ্বব্যাংকের সিনিয়র প্রাইভেট সেক্টর স্পেশালিস্ট হোসনা ফেরদৌস সুমি, বিভিন্ন শিল্পখাতের প্রতিনিধি, ব্যবসায়ী নেতা, নীতিনির্ধারক এবং সরকারি কর্মকর্তারা অংশ নেন।

অংশগ্রহণকারীরা মনে করেন, সরকারি ও বেসরকারি খাতের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে রপ্তানি খাতকে বহুমুখীকরণ করা গেলে বাংলাদেশ এলডিসি উত্তরণ-পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার পাশাপাশি বৈশ্বিক বাজারে আরও শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2019 Jaldhaka IT Park
Theme Customized By LiveTV