1. tistanewsbd2017@gmail.com : Tista24 :
June 21, 2026, 5:50 pm

ব্যাংক ঋণের নির্ভরতা কমিয়ে নতুন অর্থায়ন কৌশলে সরকার

Reporter Name
  • Update Time : Sunday, June 21, 2026
  • 16 Time View

তিস্তা টিভি ডেস্ক

দেশের আর্থিক ব্যবস্থাকে আরও টেকসই ও বিনিয়োগবান্ধব করতে সরকারি অর্থায়ন কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, স্থানীয় ব্যাংক থেকে উচ্চ সুদে ঋণ নেওয়ার প্রবণতা কমিয়ে বিকল্প অর্থায়নের উৎস খুঁজছে সরকার, যাতে বেসরকারি খাতের জন্য ঋণপ্রাপ্তি সহজ হয় এবং অর্থনীতিতে বিনিয়োগের গতি বাড়ে।

রোববার রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) আয়োজিত বাজেট-পরবর্তী সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয় এবং মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই সরকার স্থানীয় ব্যাংকিং খাত থেকে বিপুল পরিমাণ ঋণ নিয়ে বিভিন্ন ব্যয় নির্বাহ করেছে। কিন্তু এতে ব্যাংকগুলোর ঋণ সক্ষমতার একটি বড় অংশ সরকারি খাতে চলে যাওয়ায় বেসরকারি উদ্যোক্তারা প্রয়োজনীয় অর্থায়ন থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। উচ্চ সুদের হার ব্যবসা ও শিল্প খাতের জন্য অতিরিক্ত চাপ তৈরি করেছে, যা কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

তিনি জানান, ২০২৫-২৬ এবং ২০২৬-২৭ অর্থবছরে সরকার ধাপে ধাপে ব্যাংক ঋণের ওপর নির্ভরতা কমানোর পরিকল্পনা নিয়েছে। এর পরিবর্তে দীর্ঘমেয়াদি বন্ড, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগিতা, বৈদেশিক বিনিয়োগ এবং পুঁজিবাজারভিত্তিক অর্থায়নের সুযোগ সম্প্রসারণে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সরকারের লক্ষ্য হলো এমন একটি অর্থায়ন ব্যবস্থা গড়ে তোলা, যেখানে সরকারি ঋণ গ্রহণ বেসরকারি বিনিয়োগকে বাধাগ্রস্ত করবে না।

বাজেট প্রণয়নের চ্যালেঞ্জ তুলে ধরে আমির খসরু বলেন, সাধারণত একটি জাতীয় বাজেট প্রস্তুত করতে কয়েক মাস সময় লাগে। কিন্তু বর্তমান সরকারকে সীমিত সময়ের মধ্যে বাজেট প্রণয়ন করতে হয়েছে। একই সঙ্গে পূর্ববর্তী সরকারের রেখে যাওয়া বিভিন্ন আর্থিক দায় ও বকেয়া পরিশোধের চাপও মোকাবিলা করতে হচ্ছে।

তার ভাষায়, বিদ্যুৎ খাতসহ বিভিন্ন খাতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বকেয়া বিল সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। পাশাপাশি চলতি অর্থবছরে ঋণের সুদ ও দেনা পরিশোধে বিপুল অর্থ ব্যয় করতে হবে, যার ফলে উন্নয়ন ও সামাজিক খাতে নতুন ব্যয়ের সুযোগ সীমিত হয়ে পড়ছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, শুধু ঋণের সুদ পরিশোধেই বিপুল অর্থ বরাদ্দ রাখতে হচ্ছে। ফলে সরকারের আর্থিক সক্ষমতার একটি বড় অংশ বাধ্যতামূলক ব্যয়ে চলে যাচ্ছে। এ অবস্থায় ব্যয়ের দক্ষতা বৃদ্ধি, অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প কমানো এবং রাজস্ব আদায় বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

সংলাপে অংশ নেওয়া অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়িক নেতারা মনে করেন, ব্যাংকনির্ভর অর্থায়ন কমিয়ে বিকল্প উৎসের দিকে ঝুঁকলে বেসরকারি খাতের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে। একই সঙ্গে অর্থনীতিতে বিনিয়োগ, উৎপাদন ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির পথ আরও সুগম হতে পারে।

অনুষ্ঠানে পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান হোসেন জিল্লুর রহমান, র‍্যাপিডের চেয়ারম্যান এম এ রাজ্জাক, বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি আনোয়ার-উল-আলম চৌধুরী পারভেজ, বিজিএমইএর জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি ইনামুল হক খান এবং শ্রমিক নেতা মন্টু ঘোষসহ বিভিন্ন খাতের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। তারা বাজেট বাস্তবায়ন, রাজস্ব সংস্কার, বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিয়ে নিজেদের মতামত তুলে ধরেন।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2019 Jaldhaka IT Park
Theme Customized By LiveTV