নিজস্ব প্রতিবেদক
উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল এবং টানা ভারী বর্ষণের কারণে নীলফামারীতে তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। মঙ্গলবার (২৩ জুন) বিকেল ৩টায় ডালিয়া তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ১ সেন্টিমিটার ওপরে রেকর্ড করা হয়।
জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, সকাল থেকেই নদীর পানি ধারাবাহিকভাবে বাড়তে থাকে। দুপুর ১২টায় পানি বিপৎসীমা স্পর্শ করে এবং কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তা অতিক্রম করে যায়। ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার বিপৎসীমা নির্ধারিত ৫২ দশমিক ১৫ মিটার।
পানি বৃদ্ধির ফলে তিস্তা নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলগুলোতে ধীরে ধীরে পানি প্রবেশ করতে শুরু করেছে। এতে চরাঞ্চল ও নদীপাড়ের বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। যদিও এখনো পর্যন্ত বসতবাড়িতে পানি ওঠেনি বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রবিউল ইসলাম বলেন, নদীর পানি বাড়লেও এখনো বড় ধরনের বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। তবে পানি বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত থাকলে নিম্নাঞ্চল আরও প্লাবিত হতে পারে।
একই ধরনের তথ্য দেন পূর্বছাতনাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ খান। তিনি জানান, সকাল থেকেই উজানের ঢলের কারণে তিস্তার পানি দ্রুত বাড়ছে এবং নিচু এলাকাগুলোতে পানি ঢুকতে শুরু করেছে।
এদিকে ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী জানিয়েছেন, উজানের পাহাড়ি ঢল ও ভারী বৃষ্টিই পানি বৃদ্ধির প্রধান কারণ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাট খুলে দেওয়া হয়েছে, যাতে অতিরিক্ত পানি সহজে প্রবাহিত হতে পারে।
তিনি আরও জানান, নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করলেও আপাতত বড় ধরনের বন্যার আশঙ্কা নেই। তবে পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হচ্ছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সতর্কতা জারি করা হবে।
স্থানীয় প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, নদীপাড়ের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে এবং হঠাৎ পানি বৃদ্ধির ক্ষেত্রে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার প্রস্তুতি রাখতে বলা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্ষা মৌসুমে উজান থেকে নেমে আসা অতিরিক্ত পানি তিস্তা অববাহিকায় প্রায়ই এমন পরিস্থিতি তৈরি করে। ফলে স্থায়ী সমাধান হিসেবে নদী ব্যবস্থাপনা ও তীর সংরক্ষণ কার্যক্রম জোরদার করা প্রয়োজন।
Leave a Reply