ক্রীড়া ডেস্ক
হাইতিকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করেছে ব্রাজিল। তবে মাঠের জয়ের চেয়েও বড় সুখবর পেয়েছেন সেলেসাও সমর্থকেরা। দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে মাঠে ফিরতে যাচ্ছেন ব্রাজিলের পোস্টার বয় নেইমার জুনিয়র।
শনিবার হাইতির বিপক্ষে জয়ের পর সংবাদ সম্মেলনে ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি নিশ্চিত করেছেন, গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে খেলার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত থাকবেন নেইমার। তার ভাষায়, ‘‘শনিবার ব্যক্তিগত পর্যায়ে হালকা অনুশীলন করবে নেইমার। এরপর সোমবার থেকে সে দলের সঙ্গে পূর্ণাঙ্গ অনুশীলনে যোগ দেবে। স্কটল্যান্ড ম্যাচের জন্য সে প্রস্তুত থাকবে।’’
বিশ্বকাপ শুরুর আগে ডান পায়ের কাফ মাংসপেশিতে গ্রেড-২ ইনজুরিতে আক্রান্ত হন নেইমার। চিকিৎসকরা শুরুতে তাকে কয়েক সপ্তাহ বিশ্রামের পরামর্শ দেন। ফলে ব্রাজিলের প্রথম দুই ম্যাচে মাঠে নামা তো দূরের কথা, দলের সঙ্গে সফরেও যেতে পারেননি তিনি।
তবে ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (সিবিএফ) এবং কোচিং স্টাফ শুরু থেকেই নেইমারকে নিয়ে ঝুঁকি নিতে চায়নি। হাইতির বিপক্ষে ম্যাচে নামানোর পরিবর্তে তাকে নিউ জার্সির মরিসটাউন ট্রেনিং কমপ্লেক্সে রেখে বিশেষ পুনর্বাসন কর্মসূচির আওতায় আনা হয়। সেখানে ফিজিওথেরাপি, জিম সেশন, নিয়ন্ত্রিত ফিটনেস ট্রেনিং এবং বল নিয়ে আলাদা অনুশীলনের মাধ্যমে ধাপে ধাপে সুস্থ করে তোলা হয়েছে ব্রাজিলিয়ান তারকাকে।
দলের চিকিৎসকরা মনে করছেন, পুনর্বাসন প্রক্রিয়া পরিকল্পনামাফিক এগোনোর কারণেই প্রত্যাশার চেয়েও দ্রুত ফিটনেস ফিরে পেয়েছেন নেইমার। ইতোমধ্যে সতীর্থদের সঙ্গে সীমিত পরিসরে ট্যাকটিক্যাল ড্রিল ও বল নিয়ন্ত্রণ অনুশীলনেও অংশ নিতে দেখা গেছে তাকে।
আনচেলত্তির পরিকল্পনাও ছিল সুস্পষ্ট। গ্রুপ পর্বের তুলনামূলক কম গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলোতে ঝুঁকি না নিয়ে নেইমারকে পুরোপুরি সুস্থ করে তোলার দিকে মনোযোগ দেওয়া হয়। কারণ ব্রাজিলের আসল লক্ষ্য বিশ্বকাপের নকআউট পর্ব এবং শিরোপা লড়াই।
বিশ্লেষকদের মতে, স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে নেইমারের প্রত্যাবর্তন শুধু ব্রাজিলের আক্রমণভাগকেই শক্তিশালী করবে না, পুরো দলের আত্মবিশ্বাসও বাড়িয়ে দেবে। তার অভিজ্ঞতা, সৃজনশীলতা এবং ম্যাচের গতিপথ বদলে দেওয়ার সামর্থ্য নকআউট পর্বের আগে ব্রাজিলের জন্য বড় অস্ত্র হয়ে উঠতে পারে।
এদিকে হাইতির বিপক্ষে দাপুটে জয় ব্রাজিল শিবিরে নতুন উদ্দীপনা তৈরি করেছে। আক্রমণভাগে দুর্দান্ত ছন্দ, মাঝমাঠে নিয়ন্ত্রণ এবং রক্ষণভাগের দৃঢ়তায় ইতোমধ্যে টুর্নামেন্টের অন্যতম ফেবারিট হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
আগামী বুধবার মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে স্কটল্যান্ডের মুখোমুখি হবে ব্রাজিল। ম্যাচটিতে জয় কিংবা ড্র করলেই গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে পরবর্তী পর্বে যাওয়ার সুযোগ থাকবে সেলেসাওদের। আর সেই ম্যাচে যদি নেইমার মাঠে নামেন, তাহলে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের আগে সেটিই হবে ব্রাজিল সমর্থকদের জন্য সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।
এক মাসেরও বেশি সময় চোটের সঙ্গে লড়াই করে ফিরে আসা নেইমারের সামনে এখন নতুন মঞ্চ। স্কটল্যান্ড ম্যাচ দিয়ে শুরু হতে পারে তার বিশ্বকাপ অভিযানের দ্বিতীয় অধ্যায়, আর সেই অধ্যায়কে স্মরণীয় করে রাখতে মুখিয়ে আছেন ব্রাজিলের কোটি কোটি সমর্থক।
Leave a Reply