ক্রীড়া ডেস্ক
বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জায়গা নিশ্চিত করতে জাপানের বিপক্ষে কঠিন পরীক্ষায় পড়েছিল ব্রাজিল। ম্যাচের শুরুতে পিছিয়ে পড়লেও শেষ মুহূর্তের নাটকীয় গোলে ২-১ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। তবে পুরো ম্যাচে বেঞ্চেই কাটাতে হয় দলের অন্যতম তারকা নেইমারকে, যা নিয়ে ম্যাচ শেষে ব্যাখ্যা দিয়েছেন প্রধান কোচ কার্লো আনচেলত্তি।
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে আনচেলত্তি জানান, শুরু থেকেই নেইমারকে অতিরিক্ত সময়ের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছিল। প্রয়োজনে ম্যাচের শেষ ভাগ কিংবা অতিরিক্ত সময়ে তাকে মাঠে নামানোর পরিকল্পনা ছিল। তবে নির্ধারিত সময়ের শেষ মুহূর্তে ব্রাজিল জয়সূচক গোল পেয়ে যাওয়ায় সেই পরিকল্পনা আর বাস্তবায়নের প্রয়োজন হয়নি।
আনচেলত্তি বলেন, “আমরা সম্ভাব্য অতিরিক্ত সময় মাথায় রেখেই নেইমারকে প্রস্তুত করেছিলাম। ওর সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা হয়েছিল। ম্যাচের ৬০ থেকে ৬৫ মিনিটের মধ্যে তাকে নামানোর চিন্তা ছিল। কিন্তু দল সমতায় ফেরার পর খেলার ছন্দ আমাদের অনুকূলে চলে আসে। তখন অযথা পরিবর্তন করে দলের ভারসাম্য নষ্ট করতে চাইনি।”
দ্বিতীয়ার্ধে নেইমারকে ওয়ার্ম-আপ করতে দেখা গেলেও পরে তাকে আবার বেঞ্চে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। গ্যালারিতে থাকা ব্রাজিল সমর্থকেরা বারবার তার নাম ধরে স্লোগান দিলেও কোচ শেষ পর্যন্ত মাঠে নামানোর সিদ্ধান্ত বদলে দেন।
ম্যাচের শুরুটা অবশ্য ব্রাজিলের জন্য সুখকর ছিল না। প্রথমার্ধে জাপানের হয়ে কাইশু সানো গোল করে দলকে এগিয়ে নেন। পিছিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় সেলেসাওরা।
বিরতির পর আক্রমণের গতি বাড়ায় ব্রাজিল। অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার কাসেমিরো সমতা ফেরানোর পর ম্যাচে আধিপত্য বিস্তার করে তারা। যোগ করা সময়ের ষষ্ঠ মিনিটে গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেল্লির দুর্দান্ত গোলে ২-১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত হয় ব্রাজিলের।
এই জয়ের ফলে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে জায়গা করে নিয়েছে ব্রাজিল। পরবর্তী রাউন্ডে তাদের প্রতিপক্ষ হবে নরওয়ে অথবা আইভরি কোস্ট। আর নেইমারকে বিশ্রামে রাখার সিদ্ধান্তকে কৌশলগত বলেই উল্লেখ করেছেন আনচেলত্তি। তার মতে, দীর্ঘ টুর্নামেন্টে অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের শারীরিক সক্ষমতা ঠিক রাখা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি সঠিক সময়ে তাদের ব্যবহার করাও দলের সাফল্যের জন্য বড় বিষয়।
Leave a Reply