তিস্তা টিভি ডেস্ক
রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন হলমার্ক, জনতা ব্যাংক ও বেসিক ব্যাংকের ঋণ কেলেঙ্কারিতে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এসব ঘটনায় যদি আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের কোনো কর্মকর্তা জড়িত থাকেন, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকালে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের ১৯তম দিনে ২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেটের ১০ নম্বর দাবির ছাঁটাই প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
আখতার হোসেন অভিযোগ করেন, দেশের ব্যাংকিং খাতে একের পর এক বড় ধরনের আর্থিক কেলেঙ্কারি—বিশেষ করে হলমার্ক, জনতা ব্যাংক ও বেসিক ব্যাংকের ঘটনা—আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের প্রশাসনিক দুর্বলতা এবং নজরদারির ঘাটতির কারণে ঘটেছে। তার মতে, বাংলাদেশ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যমান সমন্বয়হীনতা ব্যাংকিং খাতের ঝুঁকি আরও বাড়িয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের কিছু কাঠামোগত দুর্বলতা এখন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে নীতি বাস্তবায়নে জবাবদিহির অভাবও এসব সমস্যাকে জটিল করেছে।
সংসদে তিনি দাবি করেন, এসব কেলেঙ্কারির সঙ্গে যদি কোনো কর্মকর্তা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যুক্ত থাকেন, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে অভ্যন্তরীণ তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত ও কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা না হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম আরও বাড়বে বলে তিনি সতর্ক করেন।
আখতার হোসেন ঋণ পুনঃতফসিল প্রক্রিয়া নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, অতিরিক্ত পুনঃতফসিলের কারণে প্রকৃত খেলাপি ঋণের চিত্র অনেক সময় আড়ালে চলে যায়, যা দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও স্থিতিশীলতার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।
তিনি অর্থমন্ত্রীর কাছে প্রশ্ন রেখে বলেন, ঋণ পুনঃতফসিল প্রক্রিয়ায় কীভাবে কার্যকর তদারকি ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে, এবং ব্যাংকিং খাতে জবাবদিহি বাড়াতে সরকার কী ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছে।
সংসদে দেওয়া তার বক্তব্যে তিনি আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, নিয়ন্ত্রণ সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি এবং অতীতের বড় আর্থিক কেলেঙ্কারিগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
Leave a Reply