তিস্তাসহ অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য ভাগ দাবি বাংলাদেশের: ডা. জাহেদ
Reporter Name
Update Time :
Tuesday, June 30, 2026
18 Time View
তিস্তা টিভি ডেস্ক
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেছেন, তিস্তা, গঙ্গাসহ ভারতের সঙ্গে অভিন্ন সব নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে বাংলাদেশ তার অবস্থান থেকে কোনোভাবেই সরে যাবে না। একই সঙ্গে দেশের সার্বভৌম স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে তিস্তা মহাপরিকল্পনাসহ সংশ্লিষ্ট সব উন্নয়ন উদ্যোগ বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন চলমান কার্যক্রমের অগ্রগতি তুলে ধরতে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি জানান, তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে চীনের পক্ষ থেকে প্রাথমিকভাবে নদীশাসন, ড্রেজিং, তীর সংরক্ষণ এবং অবকাঠামো উন্নয়নের মতো বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি শুষ্ক মৌসুমে পানির প্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে তিস্তায় নতুন ব্যারেজ নির্মাণের সম্ভাবনাও পরিকল্পনায় রয়েছে।
ডা. জাহেদ উর রহমান আরও বলেন, কোনো দেশের নিরাপত্তা বা কৌশলগত উদ্বেগ থাকলে বাংলাদেশ তা বিবেচনায় নেবে, তবে জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে কোনো ধরনের আপস করা হবে না।
দুর্নীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দুর্নীতি একটি ফৌজদারি অপরাধ এবং এর কোনো সময়সীমা বা তামাদি নেই। তাই দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) স্বাধীনভাবে অতীত ও বর্তমান সরকারের যেকোনো সময়ের অভিযোগ তদন্তের সুযোগ দিতে হবে।
রাজনৈতিক প্রসঙ্গে তিনি জানান, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বর্তমানে নিষিদ্ধ অবস্থায় রয়েছে। ফলে রিফাইন্ড বা অন্য কোনো নামে দলীয় কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ নেই। আদালতের চূড়ান্ত রায় না আসা পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকা উচিত বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি আরও বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারে আদালতের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে এবং গণমাধ্যমসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে এ নির্দেশনা কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে।
গণমাধ্যম ও তথ্য খাতে সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি জানান, তথ্য কমিশন ও গণমাধ্যম কমিশন গঠনের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে এবং অল্প সময়ের মধ্যেই এগুলো কার্যকর হবে।
খাদ্য নিরাপত্তা বিষয়ে তিনি বলেন, দেশে বর্তমানে পর্যাপ্ত খাদ্য মজুদ রয়েছে, যা বাজার স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা করছে এবং কৃষকরাও ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন। ভবিষ্যতে এমন একটি ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে, যাতে টিসিবির ট্রাকভিত্তিক সহায়তার ওপর নির্ভরতা কমে আসে।
ডিজিটাল সংযোগ প্রসঙ্গে তিনি জানান, দেশের হাওর, বাওড় ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে ইন্টারনেট সুবিধা পৌঁছে দিতে ইতোমধ্যে এক হাজারের বেশি হটস্পট স্থাপন করা হয়েছে এবং এ কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণ করা হবে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিষয়ে তিনি বলেন, বজ্রপাতে প্রাণহানি কমাতে কৃষকদের জন্য নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ ও বজ্রনিরোধক দণ্ড স্থাপনের মতো প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
হজ ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে তিনি জানান, এ বছর সব হাজি নিরাপদে দেশে ফিরেছেন এবং বর্তমানে কোনো হাজি নিখোঁজ নেই।
এছাড়া জাতীয় পতাকায় আরবি হরফ ব্যবহারের সাম্প্রতিক বিষয় নিয়ে তিনি বলেন, সরকার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে এবং এর পেছনের উদ্দেশ্য ও প্রেক্ষাপট খতিয়ে দেখা হচ্ছে, যাতে ভুল বার্তা না যায় এবং রাষ্ট্রীয় প্রতীক যথাযথভাবে রক্ষিত থাকে।
Leave a Reply