ক্রীড়া ডেস্ক
বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে অন্যতম বড় অঘটনের জন্ম দিল প্যারাগুয়ে। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানিকে রুদ্ধশ্বাস লড়াই শেষে টাইব্রেকারে ৪-৩ ব্যবধানে হারিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের শেষ ষোলো থেকে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে দক্ষিণ আমেরিকার দলটি। নির্ধারিত ৯০ মিনিট ও অতিরিক্ত সময়ে ১-১ গোলে সমতা থাকায় ম্যাচের ভাগ্য গড়ায় পেনাল্টি শুটআউটে।
ফক্সবরোতে অনুষ্ঠিত ম্যাচে শুরু থেকেই জার্মানিকে চাপে রাখে প্যারাগুয়ে। আক্রমণাত্মক ফুটবল, সংগঠিত রক্ষণ এবং দ্রুত পাল্টা আক্রমণে ইউলিয়ান নাগেলসমানের দলকে বারবার অস্বস্তিতে ফেলে তারা। ম্যাচের ৪৩তম মিনিটে মাতিয়াস গালারজার নিখুঁত ক্রসে দুর্দান্ত হেডে গোল করে প্যারাগুয়েকে এগিয়ে দেন হুলিও এনসিসো। বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে এটি ছিল প্যারাগুয়ের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত প্রথম গোল।
বিরতির পর জার্মানি আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে। ৫৪তম মিনিটে ফ্লোরিয়ান ভার্টজের দারুণ ক্রসে কাই হাভার্টজের নিখুঁত ফিনিশিংয়ে সমতায় ফেরে ইউরোপীয়রা। চলতি আসরে এটি ছিল হাভার্টজের তৃতীয় গোল, যা জার্মানিকে ম্যাচে ফিরিয়ে আনে।
সমতা ফেরার পর দুই দলই জয়ের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে। একাধিক সুযোগ তৈরি করলেও শেষ মুহূর্তের দৃঢ় রক্ষণ ও দুই গোলরক্ষকের অসাধারণ নৈপুণ্যে আর গোলের দেখা মেলেনি। অতিরিক্ত সময়ে জোনাথান টাহর হেডে জার্মানি বল জালে জড়ালেও ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) গোলটি বাতিল করে দেয়। রিপ্লেতে দেখা যায়, গোলের আগে জার্মান ডিফেন্ডার ওয়ালডেমার আন্তন গোলরক্ষকের ওপর ফাউল করেছিলেন।
শেষ পর্যন্ত ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। সেখানেই নায়ক হয়ে ওঠেন প্যারাগুয়ের গোলরক্ষক অরল্যান্ডো গিল। কাই হাভার্টজ ও নিক ভল্টেমাডের শট দুর্দান্ত দক্ষতায় রুখে দেন তিনি। যদিও প্যারাগুয়ের দুই ফুটবলারও নিজেদের সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি, তবু শেষ পর্যন্ত জোনাথান টাহর শট ক্রসবারের ওপর দিয়ে উড়ে গেলে হোসে কানালে শান্ত মাথায় শেষ পেনাল্টিটি জালে পাঠিয়ে নিশ্চিত করেন ঐতিহাসিক জয়।
এই হারের মাধ্যমে বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো পেনাল্টি শুটআউটে পরাজয়ের তিক্ত স্বাদ পেল জার্মানি। ২০১৪ সালে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর এবারই প্রথম নকআউট পর্বে খেলতে নেমেছিল তারা। প্রত্যাবর্তনের সেই মিশন শেষ হলো হতাশাজনক বিদায়ে।
ম্যাচে একাদশে কয়েকটি পরিবর্তন আনেন জার্মান কোচ ইউলিয়ান নাগেলসমান। জামাল মুসিয়ালার পরিবর্তে সুযোগ পান ডেনিজ উনডাভ, যিনি গ্রুপ পর্বে বদলি হিসেবে নেমে তিনটি গোল করেছিলেন। অন্যদিকে চোট কাটিয়ে বাঁ-প্রান্তের রক্ষণে ফেরেন নাথানিয়েল ব্রাউন।
প্যারাগুয়ের জন্য বড় সুখবর ছিল অধিনায়ক মিগেল আলমিরনের প্রত্যাবর্তন। আগের ম্যাচে লাল কার্ডের কারণে নিষিদ্ধ থাকলেও এদিন দলে ফিরে মাঝমাঠে ভারসাম্য এনে দেন তিনি। এনসিসো, গালারজা ও আলমিরনের সমন্বিত পারফরম্যান্স জার্মানির শক্তিশালী মিডফিল্ডকে অনেকটাই নিষ্ক্রিয় করে রাখে।
জয়ের মাধ্যমে বিশ্বকাপ ইতিহাসে নতুন মাইলফলক স্পর্শ করল প্যারাগুয়ে। বহু বছর ধরে নকআউট পর্বে সাফল্যের জন্য অপেক্ষা করা দলটি এবার সেই আক্ষেপ ঘুচিয়ে লিখল নতুন ইতিহাস। কোয়ার্টার ফাইনালে তাদের সামনে অপেক্ষা করছে আরও কঠিন পরীক্ষা। সুইডেনকে হারাতে পারলে পরবর্তী পর্বে শক্তিশালী ফ্রান্সের মুখোমুখি হবে প্যারাগুয়ে, যেখানে নিজেদের রূপকথার যাত্রা আরও দীর্ঘ করার লক্ষ্য থাকবে তাদের।
Leave a Reply