আন্তর্জাতিক ডেস্ক
পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশে সশস্ত্র গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযানে আরও ১৭ জন নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী। এর মধ্য দিয়ে ‘অপারেশন শাবান’-এ নিহত সশস্ত্র ব্যক্তির সংখ্যা বেড়ে ৪৩ জনে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে পাকিস্তান।
জিও নিউজের এক প্রতিবেদনে নিরাপত্তা সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, বেলুচিস্তানের মাঙ্গি বাঁধ পুলিশ স্টেশনে হামলার পর এই অভিযান শুরু হয়। পাকিস্তান সেনাবাহিনী, ফ্রন্টিয়ার কর্পস (এফসি) এবং প্রাদেশিক পুলিশের সমন্বয়ে যৌথভাবে ‘অপারেশন শাবান’ পরিচালনা করা হচ্ছে।
পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)-এর মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরীর ভাষ্য অনুযায়ী, মাঙ্গি পুলিশ চৌকিতে হামলাকারীরা ‘ভারত-সমর্থিত’ সশস্ত্র ব্যক্তি ছিল। তিনি জানান, হামলার সময় পুলিশ সদস্যরা প্রতিরোধ গড়ে তুললে প্রাথমিক সংঘর্ষে ১৫ জন হামলাকারী নিহত হয়। তবে ওই ঘটনায় ৯ জন পুলিশ সদস্যও প্রাণ হারান।
আইএসপিআর প্রধানের দাবি, নিরাপত্তা বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগে হামলাকারীরা কয়েকজন পুলিশ সদস্যকে জিম্মি করে। জিম্মিদের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সতর্কতার সঙ্গে অভিযান পরিচালনা করা হয়। পরবর্তী সময়ে জিয়রাত জেলার পাহাড়ি এলাকায় অভিযান জোরদার করা হয়।
নিরাপত্তা বাহিনীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অভিযানের এক পর্যায়ে হামলাকারীরা ১৮ জন জিম্মি পুলিশ সদস্যকে হত্যা করে। মাঙ্গি চেকপোস্টে হামলা ও পরবর্তী অভিযানে মোট ২৭ জন পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। একই ঘটনায় ২৬ জন সশস্ত্র ব্যক্তি নিহত হয়।
এদিকে খুজদার এলাকায় একটি পুলিশ স্টেশনে হামলার চেষ্টা ব্যর্থ করে দেওয়ার পর নিরাপত্তা বাহিনী পাল্টা অভিযান চালায়। ওই অভিযানে আরও ৮ জন সশস্ত্র ব্যক্তি নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে নিরাপত্তা সূত্র।
পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষের দাবি, ৫ জুলাই থেকে শুরু হওয়া ‘অপারেশন শাবান’ এবং বিভিন্ন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে এখন পর্যন্ত মোট ৯১ জন সশস্ত্র ব্যক্তি নিহত হয়েছে। পাশাপাশি হেলিকপ্টার থেকে পরিচালিত অভিযানে আরও ৫ থেকে ৬ জন নিহত হওয়ার তথ্যও জানিয়েছে নিরাপত্তা সূত্র।
তবে এসব অভিযানে নিহত ব্যক্তিদের পরিচয়, তাদের সংগঠন বা পাকিস্তানের অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে কোনো যাচাই করা তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি।
Leave a Reply