তিস্তা টিভি ডেস্ক
ঢাকা: দেশের কয়েকটি অঞ্চলে নদ-নদীর পানি এখনো বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলেও সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আপাতত স্বস্তির বার্তা দিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। সংস্থাটি জানিয়েছে, চারটি নদীর পানি ছয় জেলার কয়েকটি পয়েন্টে এখনো বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে দীর্ঘস্থায়ী বা বড় ধরনের বন্যার আশঙ্কা নেই।
শনিবার (১১ জুলাই) প্রকাশিত নিয়মিত বন্যা পূর্বাভাসে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী সরদার উদয় রায়হান এ তথ্য জানান।
পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় উজানের বৃষ্টিপাত এবং পাহাড়ি ঢলের প্রভাবে উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি নদীর পানি আরও বাড়তে পারে। বিশেষ করে নীলফামারী, লালমনিরহাট, রংপুর, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধা জেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি কয়েকটি স্থানে বিপৎসীমা অতিক্রম করে নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে পারে।
একই সময়ে দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলেও নদীর পানি বৃদ্ধির প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। ফেনী, চট্টগ্রাম ও খাগড়াছড়ি জেলার মুহুরী, ফেনী, সেলোনিয়া এবং হালদা নদীর পানি বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এতে এসব জেলার নিচু এলাকা সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে। পাশাপাশি লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালীর কিছু নিম্নাঞ্চলেও স্বল্প সময়ের জন্য জলাবদ্ধতা বা বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সংস্থাটির সর্বশেষ পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, দেশের ১২৭টি পানি পরিমাপ কেন্দ্রের মধ্যে ৫৭টিতে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। অপরদিকে ৬৪টি কেন্দ্রে পানি কমছে এবং ছয়টি কেন্দ্রে পানির স্তর অপরিবর্তিত রয়েছে। এতে বোঝা যাচ্ছে, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নদীর প্রবাহে ভিন্নধর্মী পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র আরও জানিয়েছে, তিস্তা, কুশিয়ারা, সুরমা, সোমেশ্বরী, মুহুরী ও মাতামুহুরী নদীর কয়েকটি পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের পানি বর্তমানে সতর্কসীমার কাছাকাছি বা সতর্কসীমায় অবস্থান করছে। এসব নদীর পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী স্থানীয় প্রশাসনকে সতর্কবার্তা দেওয়া হচ্ছে।
তবে সার্বিক মূল্যায়নে সংস্থাটি বলছে, কোথাও কোথাও স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিলেও তা দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা নেই। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
Leave a Reply