1. tistanewsbd2017@gmail.com : Tista24 :
July 9, 2026, 2:46 pm

খামেনির শেষ বিদায় আজ, মাশহাদে হবে দাফন সম্পন্ন

Reporter Name
  • Update Time : Thursday, July 9, 2026
  • 17 Time View

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে আজ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তার জন্মস্থান মাশহাদে সমাহিত করা হবে। তাকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে ইরানজুড়ে এবং প্রতিবেশী ইরাকের পবিত্র শহর নাজাফ ও কারবালায় শোকাহত মানুষের ব্যাপক সমাগম হয়েছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনার তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সন্ধ্যায় মাশহাদের বিখ্যাত ইমাম রেজা মাজার কমপ্লেক্সে খামেনির দাফন সম্পন্ন হবে। শিয়া মুসলিমদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই ধর্মীয় স্থানে সমাহিত করার সিদ্ধান্তটি তার নিজস্ব ইচ্ছা অনুযায়ী নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

দাফনের আগে খামেনির মরদেহ নিয়ে বিভিন্ন ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা পালন করা হয়। ইরাকের পবিত্র শহর কারবালায় শ্রদ্ধা নিবেদনের পর মরদেহ ইরানে ফিরিয়ে আনা হয়। পরে জানাজা ও শেষ আনুষ্ঠানিকতার জন্য তা মাশহাদের ইমাম রেজা মাজার কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ বিমান হামলায় আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হন। তার মৃত্যুর পর দেশজুড়ে কয়েক দিনব্যাপী রাষ্ট্রীয় শোক পালন করা হয়।

১৯৩৯ সালে জন্ম নেওয়া খামেনি ১৯৮৯ সালে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। প্রায় চার দশক ধরে দেশটির সর্বোচ্চ রাজনৈতিক ও ধর্মীয় কর্তৃত্বের কেন্দ্রে ছিলেন তিনি। তার নেতৃত্বে ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি, পররাষ্ট্রনীতি এবং আঞ্চলিক কৌশলে বড় ধরনের প্রভাব দেখা যায়।

খামেনির জন্মস্থান মাশহাদ ইরানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় শহর। এখানে অবস্থিত ইমাম রেজার মাজার শিয়া মুসলমানদের কাছে অত্যন্ত পবিত্র স্থান হিসেবে বিবেচিত। প্রতি বছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে লাখো ধর্মপ্রাণ মানুষ এই মাজারে জিয়ারত করতে আসেন।

এর আগে একই মাজার কমপ্লেক্সে ইরানের সাবেক প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসিকেও সমাহিত করা হয়েছিল। ২০২৪ সালে হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুর আগে রাইসিকে দেশটির ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের সম্ভাব্য মুখ হিসেবে অনেকে বিবেচনা করতেন।

খামেনির মৃত্যুর পর তার ছেলে মোজতবা খামেনি ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন। তবে নিরাপত্তাজনিত কারণে তিনি এখন পর্যন্ত জনসমক্ষে সীমিত উপস্থিতি বজায় রেখেছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, খামেনির শেষকৃত্য ও শোকানুষ্ঠানকে ঘিরে বিপুল জনসমাগমের মাধ্যমে ইরান সরকার জাতীয় ঐক্য ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার বার্তা তুলে ধরতে চাইছে। তেহরান, কোম, নাজাফ ও কারবালার ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে মাশহাদেই শেষ ঠিকানা হচ্ছে ইরানের দীর্ঘদিনের প্রভাবশালী এই নেতার।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2019 Jaldhaka IT Park
Theme Customized By LiveTV