ডেস্ক রিপোর্ট
অবৈধ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে বড় ধরনের অভিযান চালিয়ে মালয়েশিয়া ১১২টি দেশের ২ লাখ ৪২ হাজার ৬৩ জন অবৈধ অভিবাসীকে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠিয়েছে। দেশটির সরকারের ‘মাইগ্র্যান্ট রিপ্যাট্রিয়েশন প্রোগ্রাম’-এর আওতায় ২০২৫ সালের ১৫ মে থেকে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত এসব প্রত্যাবাসন সম্পন্ন করা হয়।
বুধবার (৮ জুলাই) মালয়েশিয়ার পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ দেওয়ান রাকইয়াতে এ তথ্য জানান দেশটির স্বরাষ্ট্র উপমন্ত্রী শামসুল আনুয়ার নাসারাহ। তিনি বলেন, এই কর্মসূচির আওতায় মোট ২ লাখ ৬৪ হাজার ১৯১ জন বিদেশি নাগরিক নিবন্ধন করেছিলেন। যাচাই-বাছাই শেষে তাদের মধ্যে অধিকাংশকেই নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
উপমন্ত্রী আরও জানান, অবৈধ অভিবাসন ঠেকাতে ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ১৫ জুন পর্যন্ত দেশজুড়ে ৫ হাজার ৪৭০টি অভিবাসনবিষয়ক অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এসব অভিযানে ৭৬ হাজার ৬০৮ জন বিদেশি নাগরিকের কাগজপত্র, অবস্থানের বৈধতা এবং অন্যান্য নথি যাচাই করা হয়।
বিদেশিদের বসবাসের ঘনত্ব বেশি এমন এলাকাগুলোতে নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে বলে জানান তিনি। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বিদেশি শ্রমিক নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, পাইকারি বাজার ও আবাসিক এলাকায় মোট ২ হাজার ৫২৮টি বিশেষ পরিদর্শন চালানো হয়েছে।
অবৈধ কার্যক্রম দমনে বিভিন্ন সরকারি সংস্থার সমন্বয়ে অভিযানও জোরদার করা হয়েছে। মালয়েশিয়ার পুলিশ, জাতীয় নিবন্ধন বিভাগ, স্থানীয় সরকার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর যৌথ অংশগ্রহণে ৪৭০টি সমন্বিত অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। পাশাপাশি বিদেশিদের অবৈধ ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড ঠেকাতে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আরও ৭১টি বিশেষ অভিযান চালানো হয়।
এদিকে পার্লামেন্টে দেশটির আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হয়। পুলিশের সদস্যদের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক মামলার সংখ্যা বাড়ার তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। পুলিশের ইন্টেগ্রিটি অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ডস কমপ্লায়েন্স ডিপার্টমেন্টের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে ৩৭৮টি, ২০২৪ সালে ৪০৭টি এবং ২০২৫ সালে ৪৬৩টি অপরাধসংক্রান্ত মামলা নথিভুক্ত হয়েছে।
পুলিশ হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনাও পরিসংখ্যানে উঠে এসেছে। ২০২৩ সালে ১২টি, ২০২৪ সালে ১৩টি এবং ২০২৫ সালে ২২টি এমন মৃত্যুর ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে।
অন্যদিকে, ইন্ডিপেনডেন্ট পুলিশ কন্ডাক্ট কমিশন (আইপিসিসি)-এ জমা পড়া অভিযোগের সংখ্যাও বেড়েছে। ২০২৩ সালে ১০০টি অভিযোগ থেকে তা বেড়ে ২০২৪ সালে ৩৩৮টি এবং ২০২৫ সালে ৩৮৮টিতে পৌঁছেছে।
তবে শামসুল আনুয়ার নাসারাহ বলেন, ২০২৩ সালের জুলাইয়ে আইপিসিসি কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর অভিযোগ গ্রহণ ও ব্যবস্থাপনার পদ্ধতিতে পরিবর্তন এসেছে। তাই অভিযোগের সংখ্যা বৃদ্ধিকে আগের সময়ের সঙ্গে সরাসরি তুলনা করার ক্ষেত্রে এই বিষয়টি বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন।
মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার নিয়েও সংসদে বক্তব্য দেন উপমন্ত্রী। তিনি বলেন, ১৯৪৮ সালের রাষ্ট্রদ্রোহ আইন এখনো কার্যকর রয়েছে এবং উসকানিমূলক বক্তব্য, জাতিগত বিদ্বেষ ছড়ানো, সহিংসতায় প্ররোচনা, জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করা কিংবা রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করে—এমন কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধেই এ আইন প্রয়োগ করা হবে।
তিনি আরও বলেন, কেবল পর্যাপ্ত প্রমাণ ও শক্ত আইনি ভিত্তি থাকলেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সরকারের লক্ষ্য হলো একদিকে অবৈধ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ করা, অন্যদিকে দেশের নিরাপত্তা ও সামাজিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা।
Leave a Reply