তিস্তা টিভি ডেস্ক
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তবে নির্বাচনকালীন সরকারের কাঠামো, সদস্যসংখ্যা ও দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর বিস্তারিত বিষয়গুলো পরিষ্কার হবে বলে জানান তিনি।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী নিয়ে আপিল বিভাগের রায়ের প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, আগামী জাতীয় নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই হবে। এটি সরকারের রাজনৈতিক অঙ্গীকার। তিনি বলেন, নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করার লক্ষ্যেই এ ব্যবস্থার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার পটভূমি তুলে ধরে মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ১৯৯০-এর দশকের রাজনৈতিক আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ১৯৯৬ সালে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে নির্দলীয় ও নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা সংবিধানে যুক্ত হয়।
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বিএনপি অবাধ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলন করে আসছে। জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা এবং ‘আমার ভোট আমি দেব, যাকে খুশি তাকে দেব’—এই নীতির বাস্তবায়নই ছিল এ দাবির মূল উদ্দেশ্য।
এর আগে বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী সংক্রান্ত হাইকোর্টের রায় বহাল রাখে। এ রায়ের পর আইনজীবীদের একাংশ মনে করছেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ও গণভোটের বিধান পুনর্বহালের বিষয়ে নতুন করে আইনি পথ তৈরি হয়েছে।
আইনমন্ত্রী বলেন, আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর নির্বাচনকালীন সরকারের বিষয়ে সাংবিধানিক ও আইনি বিষয়গুলো আরও স্পষ্ট হবে। এরপর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
তিনি জানান, দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া শক্তিশালী করতে এবং জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন করাই সরকারের মূল লক্ষ্য।
Leave a Reply