তিস্তা টিভি ডেস্ক
জুলাইয়ের পরিবর্তনকে ঘিরে দেশের ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র কাঠামো নিয়ে বিভিন্ন ধরনের আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে বাংলাদেশের সামনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো একটি স্থিতিশীল, গণতান্ত্রিক ও জনগণের অধিকারভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা—এমন মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
তিনি বলেছেন, জুলাইয়ের পর দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে বিভিন্ন পক্ষ বিভিন্ন প্রস্তাব দিয়েছে। কেউ রাষ্ট্রের চরিত্র পরিবর্তনের কথা বলেছেন, কেউ বিদ্যমান সাংবিধানিক কাঠামো পরিবর্তনের দাবি তুলেছেন, আবার কেউ নতুন সংবিধানের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন। কিন্তু সরকারের অগ্রাধিকার হচ্ছে জনগণের অংশগ্রহণে একটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা শক্তিশালী করা।
বুধবার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামে ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন বিভাগের আয়োজনে ‘মননে জুলাই’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত সরকার দেশের দায়িত্ব নিয়েছে। রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে ভুল-ত্রুটি থাকা স্বাভাবিক, তবে সেগুলো চিহ্নিত করে সংশোধনের মাধ্যমে একটি সমতা, ন্যায়বিচার ও জবাবদিহিতার ভিত্তিতে বাংলাদেশ নির্মাণের লক্ষ্যেই কাজ করা হচ্ছে।
জুলাইয়ের ঘটনাপ্রবাহ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, এটি কোনো একক দিনের ঘটনা নয়, আবার কোনো একটি মুহূর্তে এর পটভূমি তৈরি হয়নি। দীর্ঘ সময় ধরে মানুষের মধ্যে জমে থাকা অসন্তোষ, অধিকারবঞ্চনার অভিজ্ঞতা এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের ক্ষোভ একপর্যায়ে বৃহত্তর আন্দোলনে রূপ নেয়।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাজনৈতিক পরিবর্তনের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, অনেক দেশে সরকার পতনের পর স্থিতিশীলতা ফিরে আসেনি; বরং সংঘাত ও সংকট তৈরি হয়েছে। সিরিয়া, লিবিয়া ও ইয়েমেনের মতো দেশে ক্ষমতার পরিবর্তন দীর্ঘ অস্থিরতার জন্ম দিয়েছে। আবার কিছু দেশে দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকা শাসকরা উত্তরাধিকার সূত্রে ক্ষমতা ধরে রাখার চেষ্টা করেছেন।
কম্বোডিয়ার রাজনৈতিক পরিস্থিতির উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, হুন সেন দীর্ঘ সময় রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকার পর ২০২৩ সালে তার ছেলে হুন মানেতের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করেন। বাংলাদেশেও দীর্ঘমেয়াদি ক্ষমতা ধরে রাখার একটি পরিকল্পনা ছিল বলে তিনি মন্তব্য করেন। তবে দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা, বিশেষ করে বিএনপির মতো একটি রাজনৈতিক দলের ধারাবাহিক বিরোধিতার কারণে সেই প্রচেষ্টা সফল হয়নি।
তিনি আরও বলেন, জুলাইয়ের আন্দোলন কোনো ব্যক্তি, দল বা নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর একক প্রচেষ্টার ফল নয়। দীর্ঘদিন নিখোঁজ থাকা ব্যক্তিদের স্বজনদের কষ্ট, বৈষম্যের শিকার মানুষের প্রতিবাদ, তরুণদের অংশগ্রহণ এবং সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত সম্পৃক্ততা এই আন্দোলনকে শক্তিশালী করেছে।
ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, জুলাইয়ের মূল বার্তা ছিল মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং কর্তৃত্ববাদী শাসনের অবসান। সেই চেতনাকে ধারণ করে একটি মানবিক, গণতান্ত্রিক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র গড়ে তোলাই এখন প্রধান দায়িত্ব।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. শাহ নিসতার জাহান কবীর। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাদারীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ও ‘মায়ের ডাক’-এর সমন্বয়ক সানজিদা ইসলাম তুলি, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দিন এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমিন।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় চেয়ারম্যান, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
Leave a Reply