চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
কয়েক দিনের টানা ভারি বৃষ্টিতে চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। নগরীর প্রধান সড়ক থেকে শুরু করে অলিগলি, বাসাবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ঢুকে পড়েছে বৃষ্টির পানি। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন নগরীর নিচু এলাকার বাসিন্দারা।
বুধবার (৮ জুলাই) দুপুর পর্যন্ত নগরীর বিভিন্ন এলাকায় হাঁটু থেকে কোমর সমান পানি দেখা গেছে। কোথাও কোথাও সড়কগুলো পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় যান চলাচল ব্যাহত হয়েছে। অনেক এলাকায় মানুষকে বাধ্য হয়ে পানির মধ্য দিয়েই চলাচল করতে দেখা গেছে।
জলাবদ্ধতার কারণে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন নিচতলার বাসিন্দারা। অনেক বাসাবাড়িতে পানি ঢুকে রান্নাবান্না বন্ধ হয়ে গেছে। কোথাও কোথাও শৌচাগার ও রান্নাঘর পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের নিয়ে বিপাকে পড়েছেন বহু পরিবার।
নগরীর বহদ্দারহাট, চকবাজার, বাকলিয়া, চান্দগাঁও, হালিশহর, পাঁচলাইশ, কাতালগঞ্জ, মুরাদপুর, পতেঙ্গা, কুয়াইশ, আকমল আলী সড়ক, হাজীপাড়া, লালদিঘীর পাড়, সিঅ্যান্ডবি মোড়, পলিটেকনিক মোড়, গোলপাহাড়সহ বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার খবর পাওয়া গেছে।
পানি ঢুকে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অনেক দোকানপাট। ব্যবসায়ীরা পণ্য ও আসবাবপত্র উঁচু স্থানে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। অনেক দোকানে পানি ঢুকে মালামাল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বহদ্দারহাট এলাকার বাসিন্দা ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তৌহিদুর রহমান জানান, আগের দিন পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও রাতের ভারি বৃষ্টির পর সকালে পানি দ্রুত বাড়তে থাকে। বর্তমানে তার বাসায় কোমর সমান পানি উঠেছে। বাধ্য হয়ে ঘরের মালামাল অন্যত্র সরিয়ে নিতে হয়েছে।
চকবাজার এলাকার বাসিন্দা আকলিমা বলেন, নিচতলায় বসবাস করায় তাদের সবচেয়ে বেশি ভোগান্তি হচ্ছে। ঘরের ভেতরে হাঁটু সমান পানি জমেছে, রান্নাঘরও ব্যবহার করা যাচ্ছে না। পরিবারের সদস্যরা শুকনো খাবার খেয়ে দিন পার করছেন।
আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকার কারণে চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভারি বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, বুধবার সকাল ৯টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে ২৩৭ দশমিক ৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। একই সময়ে আমবাগান আবহাওয়া অফিসে ২২৪ মিলিমিটার বৃষ্টির তথ্য পাওয়া গেছে।
পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের সহকারী পূর্বাভাস কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ চৌধুরী জানান, মৌসুমি বায়ুর সক্রিয়তার কারণে আরও কয়েক দিন বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। ভারি থেকে অতিভারি বর্ষণের কারণে নগরীতে জলাবদ্ধতার পাশাপাশি পাহাড়ধসের ঝুঁকিও রয়েছে। প্রয়োজন ছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় চলাচল না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে টানা বৃষ্টির কারণে রেললাইন পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় ঢাকা-চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে ট্রেন চলাচলেও বিঘ্ন ঘটেছে। চট্টগ্রামের ষোলশহর এলাকায় একটি ট্রেন আটকে যাওয়ার পর দীর্ঘ সময় অপেক্ষা শেষে যাত্রা বাতিল করা হয়। এতে প্রায় এক হাজার যাত্রী দুর্ভোগে পড়েন।
চট্টগ্রাম নগরীর জলাবদ্ধতা নতুন নয়। তবে টানা ভারি বৃষ্টির কারণে এবার অনেক এলাকায় দ্রুত পানি জমে যাওয়ায় জনজীবনে ব্যাপক ভোগান্তি তৈরি হয়েছে।
Leave a Reply