1. tistanewsbd2017@gmail.com : Tista24 :
July 8, 2026, 5:17 pm

‘আর্জেন্টিনা-মিশর ম্যাচে নেওয়া দুটি সিদ্ধান্তই ফুটবলের আইন অনুযায়ী সঠিক ছিল’

Reporter Name
  • Update Time : Wednesday, July 8, 2026
  • 20 Time View

ক্রীড়া ডেস্ক

ফিফা বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে আর্জেন্টিনার কাছে ৩-২ গোলে নাটকীয় হারের পর রেফারিং ও ভিএআরের সিদ্ধান্ত নিয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে মিশর। দলটির প্রধান কোচ হোসাম হাসান দাবি করেছেন, ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলোতে রেফারি ও ভিএআর আর্জেন্টিনার পক্ষে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এমনকি তার অভিযোগ, লিওনেল মেসিদের টুর্নামেন্টে টিকিয়ে রাখতেই এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তবে মিশর শিবিরের এই অভিযোগের সঙ্গে একমত নন ইংল্যান্ডের সাবেক প্রিমিয়ার লিগ রেফারি অ্যান্ডি ডেভিস। ম্যাচের বিতর্কিত ঘটনাগুলো বিশ্লেষণ করে তিনি বলেছেন, ভিএআরের হস্তক্ষেপ এবং মাঠের রেফারির নেওয়া দুটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তই ফুটবলের প্রচলিত আইন অনুযায়ী সঠিক ছিল।

সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা ঘটে ম্যাচের ৬২তম মিনিটে। মোস্তাফা জিকোর গোলে মিশর ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেলেও কয়েক মিনিট পর ভিএআরের পরামর্শে গোলটি বাতিল করে দেন ফরাসি রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়ে।

রিপ্লেতে দেখা যায়, গোলের আগে আক্রমণ তৈরির সময় মিশরের ডিফেন্ডার মারওয়ান আত্তিয়া আর্জেন্টিনার লিসান্দ্রো মার্তিনেজের জার্সি টেনে ধরেন এবং তার পায়ের ওপর চাপ দেন। সেই ঘটনাই ভিএআরের নজরে আসে। পরে মনিটরে ভিডিও দেখে রেফারি গোল বাতিলের সিদ্ধান্ত দেন।

অ্যান্ডি ডেভিসের ব্যাখ্যায়, আত্তিয়ার ফাউলের কারণেই আর্জেন্টিনা বলের নিয়ন্ত্রণ হারায় এবং সেই আক্রমণের ধারাবাহিকতায় মিশর গোল করে। ফুটবলের আইন অনুযায়ী, গোল হওয়ার আগে একই আক্রমণপর্বে আক্রমণকারী দলের কোনো ফাউল, হ্যান্ডবল বা অফসাইড ধরা পড়লে সেই গোল বাতিল করা বাধ্যতামূলক। তাই রেফারির সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের সুযোগ ছিল না।

তিনি আরও বলেন, ভিএআরের মূল উদ্দেশ্যই হলো গোল, পেনাল্টি, সরাসরি লাল কার্ড ও ভুল পরিচয়ে শাস্তি দেওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো পুনর্বিবেচনা করা। এই ঘটনায় সেই প্রক্রিয়াই অনুসরণ করা হয়েছে।

ম্যাচের শেষ দিকে আর্জেন্টিনার জয়সূচক গোলের আগে মিশর দুটি পেনাল্টির দাবিও তোলে। প্রথম ঘটনায় হামদি ফাতির জার্সি টানার অভিযোগ ওঠে আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের বিরুদ্ধে। পরে মোহাম্মদ সালাহ দাবি করেন, পেনাল্টি বক্সে প্রবেশের সময় হুলিয়ান আলভারেস তাকে ফাউল করেছেন।

তবে মাঠের রেফারি দুই ক্ষেত্রেই খেলা চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন এবং ভিএআরও সেই সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের প্রয়োজন দেখেনি।

ডেভিসের মতে, প্রথম ঘটনায় জার্সি টানার বিষয়টি ফাতির খেলায় উল্লেখযোগ্য কোনো প্রভাব ফেলেনি। তাই সেটিকে পেনাল্টি দেওয়ার মতো অপরাধ বলা যায় না। অন্যদিকে সালাহর ঘটনায় দুই খেলোয়াড়ের মধ্যে স্বাভাবিক গতির সংস্পর্শ হয়েছে, কিন্তু স্পষ্টভাবে কোনো অবৈধ ট্যাকল বা ফাউলের প্রমাণ মেলেনি। সে কারণেই ভিএআরের হস্তক্ষেপেরও প্রয়োজন পড়েনি।

সাবেক এই রেফারি আরও বলেন, জিকোর বাতিল হওয়া গোল এবং সালাহর পেনাল্টি দাবিকে একইভাবে দেখার সুযোগ নেই। প্রথমটি ছিল আক্রমণের ধারাবাহিকতায় সংঘটিত স্পষ্ট ফাউলের ফল, আর দ্বিতীয়টি ছিল খেলার স্বাভাবিক শারীরিক সংস্পর্শ। ফলে ফুটবলের আইন অনুযায়ী দুই ক্ষেত্রেই রেফারি ও ভিএআরের সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল বলেই তিনি মনে করেন।

ম্যাচ শেষে মিশর শিবিরের অভিযোগে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হলেও, সাবেক আন্তর্জাতিক রেফারিদের বিশ্লেষণে বিতর্কিত সিদ্ধান্তগুলোকে নিয়মসঙ্গত বলেই ব্যাখ্যা করা হচ্ছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2019 Jaldhaka IT Park
Theme Customized By LiveTV