ক্রীড়া ডেস্ক
ফুটবল মাঠের লড়াইয়ের বাইরেও মানবিকতার বার্তা দিয়ে আলোচনায় এসেছেন মিশরের প্রধান কোচ হোসাম হাসান। বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হওয়ার আগে ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি জানিয়ে আবেগঘন বক্তব্য দিয়েছেন তিনি।
২০২৬ বিশ্বকাপের রাউন্ড অব ৩২-এ অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টাইব্রেকারে জয় পাওয়ার পর ফিলিস্তিনিদের উদ্দেশে সেই জয় উৎসর্গ করেছিলেন হাসান। ম্যাচ শেষে তার হাতে দেখা গিয়েছিল ফিলিস্তিনের পতাকা। এবার আর্জেন্টিনার বিপক্ষে মাঠে নামার আগে সংবাদ সম্মেলনেও উঠে এলো সেই প্রসঙ্গ।
সোমবার (৬ জুলাই) সংবাদ সম্মেলনে আর্জেন্টিনা ম্যাচ নিয়ে কথা বলার একপর্যায়ে ফিলিস্তিনিদের দুর্ভোগের বিষয়টি তুলে ধরেন মিশর কোচ। চার মিনিটেরও বেশি সময় ধরে তিনি মানবিক সংকট নিয়ে কথা বলেন। তার বক্তব্য শেষে উপস্থিত সাংবাদিকরা করতালির মাধ্যমে সমর্থন জানান।
হোসাম হাসান বলেন, ‘পৃথিবীতে এমন কেউ যদি থাকে, যে ফিলিস্তিনিদের কষ্ট অনুভব করে না, তাহলে সে প্রকৃত অর্থে মানুষ নয়। সে আরব, ইউরোপীয় কিংবা আমেরিকান—পরিচয় যাই হোক না কেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘কোনো প্রাণীর ওপর নির্যাতন হলেও মানুষ প্রতিবাদ করে। কিন্তু হাজার হাজার মানুষের প্রাণহানি যেন দিন দিন স্বাভাবিক ঘটনায় পরিণত হচ্ছে, যা অত্যন্ত বেদনাদায়ক।’
গাজায় চলমান মানবিক সংকটের প্রসঙ্গ তুলে হাসান বলেন, ‘আমি প্রথমে একজন মানুষ, এরপর আরব। ফুটবলের মাধ্যমে আমার বার্তা হলো—যেমন পারস্পরিক সম্মান জরুরি, তেমনি প্রতিটি মানুষের বেঁচে থাকার অধিকারকেও সম্মান করতে হবে।’
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জয়ের পর ফিলিস্তিনের পতাকা হাতে নেওয়ার কারণ জানতে চাইলে মিশর কোচ বলেন, ‘এটি ছিল সম্পূর্ণ মানবিক একটি অনুভূতি। এর সঙ্গে অন্য কোনো বিষয় জড়িত নয়।’
এদিকে মাঠের লড়াই নিয়েও আত্মবিশ্বাসী মিশর। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বাংলাদেশ সময় রাত ১০টায় বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচে নামবে আফ্রিকার দলটি। এই ম্যাচে জয় পেলে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নেবে মিশর।
তবে লিওনেল মেসিদের বিপক্ষে খেললেও ভয় পাচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন হাসান। তার ভাষ্য, ‘আমরা জানি, আমরা বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দলের বিপক্ষে খেলতে যাচ্ছি। তাদের দলে লিওনেল মেসির মতো একজন কিংবদন্তি আছে। কিন্তু আমরা কাউকে ভয় পাই না।’
মিশর কোচ আরও বলেন, ‘আমাদের স্বপ্নের কোনো সীমা নেই। আমরা নিজেদের আন্ডারডগ মনে করি না। আমরা হাজার বছরের সমৃদ্ধ ইতিহাস ও ঐতিহ্যের একটি দেশের প্রতিনিধিত্ব করছি। মিশর, আরব বিশ্ব ও আফ্রিকার মানুষের জন্য নিজেদের সেরাটা দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।’
আর্জেন্টিনা-মিশরের এই ম্যাচ তাই শুধু কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিটের লড়াই নয়, একই সঙ্গে দুই ভিন্ন স্বপ্ন ও দুই দলের আত্মবিশ্বাসের বড় পরীক্ষা।
Leave a Reply