ক্রীড়া ডেস্ক
ফিফা বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর সবচেয়ে প্রতীক্ষিত ম্যাচগুলোর একটি আজ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা মুখোমুখি হবে আফ্রিকার শক্তিশালী দল মিসরের। যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার (৭ জুলাই) রাত ১০টায় শুরু হবে ম্যাচটি। জয়ী দল নিশ্চিত করবে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট, আর পরাজিত দলকে বিদায় নিতে হবে শিরোপার লড়াই থেকে।
ম্যাচটি শুধু দুই দলের নকআউট লড়াই নয়, এটি হতে যাচ্ছে সমসাময়িক ফুটবলের দুই মহাতারকা লিওনেল মেসি ও মোহামেদ সালাহর বহুল প্রতীক্ষিত মুখোমুখি। দুই অধিনায়কের কাঁধেই থাকবে নিজ নিজ দলকে শেষ আটে তুলে নেওয়ার সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।
৩৯ বছর বয়সী লিওনেল মেসির এটি শেষ বিশ্বকাপ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অন্যদিকে ৩৪ বছর বয়সী মোহামেদ সালাহর ক্ষেত্রেও একই আলোচনা চলছে। ফলে বিশ্বকাপের মঞ্চে এই দুই কিংবদন্তির মুখোমুখি লড়াই ফুটবলপ্রেমীদের জন্য বাড়তি আবেগ ও আকর্ষণ তৈরি করেছে।
গ্রুপ পর্বে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়ে নকআউটে জায়গা করে নিয়েছে আর্জেন্টিনা। ভারসাম্যপূর্ণ স্কোয়াড, অভিজ্ঞ কোচিং স্টাফ এবং বড় ম্যাচের অভিজ্ঞতা বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়েছে। আক্রমণভাগে মেসির পাশাপাশি দলের তরুণ ও অভিজ্ঞ ফুটবলারদের উপস্থিতি আর্জেন্টিনাকে অন্যতম ফেবারিট হিসেবে এগিয়ে রাখছে।
অন্যদিকে মিসরও আত্মবিশ্বাসী। পুরো দলের আক্রমণের মূল ভরসা মোহামেদ সালাহ। তার গতি, নিখুঁত ফিনিশিং এবং ম্যাচের ভাগ্য বদলে দেওয়ার সামর্থ্য প্রতিপক্ষের জন্য বড় হুমকি। আফ্রিকার প্রতিনিধিরা বিশ্বাস করছে, সালাহর নেতৃত্বে ইতিহাস গড়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নেওয়া সম্ভব।
জাতীয় দলের হয়ে অর্জনের বিচারে অবশ্য মেসি অনেক এগিয়ে। বিশ্বকাপ, কোপা আমেরিকা ও ফিনালিসিমাসহ আন্তর্জাতিক ফুটবলের প্রায় সব বড় শিরোপাই জিতেছেন তিনি। অন্যদিকে সালাহ এখনও দেশের হয়ে বড় কোনো আন্তর্জাতিক ট্রফি জিততে পারেননি। তবে আফ্রিকান ফুটবলে তিনি মিসরের সবচেয়ে বড় তারকা এবং দেশের কোটি সমর্থকের আশা-ভরসার প্রতীক।
দুই তারকার খেলার ধরনেও রয়েছে স্পষ্ট পার্থক্য। মেসির অসাধারণ বল নিয়ন্ত্রণ, নিখুঁত পাস, দূরদর্শী প্লেমেকিং এবং মুহূর্তের জাদু ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে সালাহর গতি, ডান প্রান্ত থেকে ভেতরে কেটে আসা আক্রমণ এবং গোল করার প্রবল ক্ষমতা তাকে বিশ্বের অন্যতম ভয়ংকর ফরোয়ার্ডে পরিণত করেছে।
পরিসংখ্যান ও শক্তির বিচারে আর্জেন্টিনা এগিয়ে থাকলেও নকআউট ফুটবলে কোনো দলকেই হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। একটি ভুল, একটি মুহূর্ত কিংবা একটি দুর্দান্ত ব্যক্তিগত নৈপুণ্যই নির্ধারণ করে দিতে পারে ম্যাচের ভাগ্য।
তাই আজকের এই লড়াই শুধু কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিটের জন্য নয়, এটি হতে যাচ্ছে বিশ্ব ফুটবলের দুই কিংবদন্তি—লিওনেল মেসি ও মোহামেদ সালাহর সম্ভাব্য শেষ বিশ্বকাপ দ্বৈরথ। ফুটবলপ্রেমীরা তাই অপেক্ষায় আছেন আরেকটি স্মরণীয় রাতের, যেখানে নির্ধারিত হবে কে এগিয়ে যাবে শিরোপার পথে আর কার বিশ্বকাপ যাত্রার ইতি ঘটবে।
Leave a Reply