ক্রীড়া ডেস্ক
স্বাগতিক হওয়ার বাড়তি সুবিধা কাজে লাগিয়ে বড় কিছু করার স্বপ্ন দেখেছিল যুক্তরাষ্ট্র। তবে সেই স্বপ্ন থেমে গেল বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতেই। সিয়াটলের লুমেন ফিল্ডে অনুষ্ঠিত নকআউট লড়াইয়ে বেলজিয়ামের কাছে ৪-১ গোলের বড় ব্যবধানে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিয়েছে মার্কিনরা। দুর্দান্ত এই জয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করেছে ইউরোপের শক্তিশালী দল বেলজিয়াম।
ম্যাচের আগে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগান। লাল কার্ডের কারণে নিষিদ্ধ থাকা এই ফুটবলারকে দলে ফেরানোর বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হস্তক্ষেপ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দেয়। তবে মাঠের লড়াইয়ে সেই সিদ্ধান্তের কোনো ইতিবাচক প্রভাব দেখা যায়নি। বরং গোটা ম্যাচেই বেলজিয়ামের গতিময় ও সংগঠিত ফুটবলের সামনে ছন্দহীন ছিল যুক্তরাষ্ট্র।
শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে বেলজিয়াম। দ্রুত বলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে একের পর এক আক্রমণে যুক্তরাষ্ট্রের রক্ষণকে চাপে রাখে তারা। প্রতিপক্ষের ডিফেন্স ও গোলরক্ষকের একাধিক ভুলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নেয় রেড ডেভিলস।
বেলজিয়ামের জয়ের নায়ক ছিলেন চার্লস ডি কেটেলার। অসাধারণ নৈপুণ্যে দুটি গোল করে দলের বড় জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি। এছাড়া হান্স ভেনাকেন ও রোমেলু লুকাকু একটি করে গোল করেন। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে একমাত্র গোলটি করেন মালিক তিলমান। তার সেই গোল কিছু সময়ের জন্য ম্যাচে সমতার আশা জাগালেও পরে আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি স্বাগতিকরা।
মধ্যমাঠে কেভিন ডি ব্রুইনার নেতৃত্বে দারুণ ছন্দে খেলেছে বেলজিয়াম। আক্রমণ তৈরি, বলের দখল এবং খেলার গতি নিয়ন্ত্রণ—সব বিভাগেই প্রতিপক্ষকে ছাড়িয়ে যায় তারা। লুকাকুর শক্তিশালী উপস্থিতি ও ডি ব্রুইনার সৃজনশীল ফুটবল পুরো ম্যাচেই যুক্তরাষ্ট্রের রক্ষণকে ব্যস্ত রেখেছিল।
এই জয়ের মাধ্যমে গত ১২ বছরের মধ্যে দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে যুক্তরাষ্ট্রকে বিদায় করল বেলজিয়াম। একই সঙ্গে সব ধরনের প্রতিযোগিতা মিলিয়ে নিজেদের অপরাজিত থাকার ধারাও ১৮ ম্যাচে উন্নীত করল ইউরোপের দলটি।
অন্যদিকে স্বাগতিকদের জন্য এটি ছিল বড় হতাশার এক সমাপ্তি। গ্রুপ পর্বে টানা তিন ম্যাচ জিতে দারুণ আত্মবিশ্বাস নিয়ে শেষ ষোলোতে উঠলেও ২০০২ সালের পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন অধরাই থেকে গেল তাদের। ইতিহাসও ছিল যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে। ১৯৩০ সালের বিশ্বকাপে জয়ের পর থেকে বেলজিয়ামের বিপক্ষে টানা সপ্তম পরাজয়ের স্বাদ পেল মার্কিনরা। এছাড়া ইউরোপের প্রতিপক্ষের বিপক্ষে সবশেষ ১২ ম্যাচের মধ্যে ১১টিতেই হেরেছে তারা।
কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়ামের সামনে আরও কঠিন পরীক্ষা অপেক্ষা করছে। আগামী শুক্রবার ক্যালিফোর্নিয়ার ইংগলউডে তারা মুখোমুখি হবে ২০১০ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেনের। সেই ম্যাচের বিজয়ী দল সেমিফাইনালে খেলবে ফ্রান্স অথবা মরক্কোর বিপক্ষে। শিরোপার লড়াইয়ে টিকে থাকতে হলে এবারও একই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে হবে রোমেলু লুকাকু, কেভিন ডি ব্রুইনা ও তাদের সতীর্থদের।
Leave a Reply