ক্রীড়া ডেস্ক
ছয় গোলের রোমাঞ্চে ভরপুর ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত পরিণত হয়েছে তীব্র বিতর্কের কেন্দ্রে। মিশরের বিপক্ষে পিছিয়ে পড়েও দারুণ প্রত্যাবর্তন করে জয় তুলে নেয় আর্জেন্টিনা। তবে ম্যাচের ফলের চেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে রেফারিং এবং ভিএআর সিদ্ধান্ত নিয়ে মিশর শিবিরের বিস্ফোরক অভিযোগ।
ম্যাচের ৫৮তম মিনিটে মিশরের হয়ে দ্বিতীয় গোল করেন তারকা ফরোয়ার্ড মোস্তফা জিকো। সেই গোলে এগিয়েও গিয়েছিল মিশর। কিন্তু ভিএআর পর্যালোচনার পর গোলটি বাতিল করে দেন ফরাসি রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়ে। ওই সিদ্ধান্তের পর থেকেই ক্ষোভে ফেটে পড়ে মিশর শিবির।
ম্যাচ শেষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের হতাশা প্রকাশ করেন মোস্তফা জিকো। তিনি লেখেন, ‘আল্লাহই আমাদের জন্য যথেষ্ট, তিনিই সর্বোত্তম অভিভাবক। তিনি পুরো একটি দেশের পরিশ্রম নষ্ট করে দিয়েছেন।’ এরপর আরও বিস্ফোরক মন্তব্য করে তিনি দাবি করেন, ‘এই বিশ্বকাপ আর্জেন্টিনার জন্যই নির্ধারিত।’
একই সুরে কথা বলেছেন মিশরের প্রধান কোচ হোসাম হাসান। তার দাবি, মাঠে নামার আগেই ম্যাচের পরিবেশ আর্জেন্টিনার অনুকূলে তৈরি করা হয়েছিল। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘আমরাই জয়ের যোগ্য ছিলাম। ম্যাচের আগে আর্জেন্টিনা রেফারির ওপর চাপ সৃষ্টি করেছিল, কারণ তিনি ফরাসি। শুরু থেকেই এমন একটি পরিবেশ তৈরি করা হয়েছিল, যার প্রভাব পুরো ম্যাচে পড়েছে।’
রেফারিং নিয়ে একাধিক অভিযোগও তোলেন মিশর কোচ। তার দাবি, দল একটি পরিষ্কার পেনাল্টি থেকে বঞ্চিত হয়েছে, অথচ সেই ঘটনাটি ভিএআরেও পর্যালোচনা করা হয়নি। পাশাপাশি মোস্তফা জিকোর করা দ্বিতীয় গোল বাতিলের সিদ্ধান্তকেও তিনি অন্যায় বলে উল্লেখ করেন।
হোসাম হাসান বলেন, ‘জীবন কখনো কখনো খুব নির্মম। আমরা যে সিদ্ধান্তগুলোর শিকার হয়েছি, সেগুলো ম্যাচের গতিপথই বদলে দিয়েছে।’
তবে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগটি আসে তার শেষ মন্তব্যে। কোনো রাখঢাক না রেখেই তিনি বলেন, ‘পরিণতি যাই হোক, আমি আমার মত বলব। এটি স্পষ্টভাবেই পাতানো ম্যাচ ছিল, সবাই তা দেখেছে।’
এরপর আর্জেন্টিনাকে ঘিরে নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘যদি আর্জেন্টিনাকেই জেতানো লক্ষ্য হয়ে থাকে, তাহলে আমাদের এখানে খেলতে ডাকা হলো কেন?’
মিশর শিবিরের এই মন্তব্য ইতোমধ্যেই বিশ্ব ফুটবলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। যদিও ম্যাচ শেষে রেফারিং নিয়ে ওঠা এসব অভিযোগের বিষয়ে এখন পর্যন্ত ফিফা কিংবা ম্যাচ কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
Leave a Reply