তিস্তা টিভি ডেস্ক
দেশের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী চিকিৎসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) ও হাসপাতালের ৮০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আগামী শনিবার (১১ জুলাই) প্রতিষ্ঠানটি পরিদর্শন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে ইতোমধ্যে ঢাকা মেডিকেল কলেজ ক্যাম্পাসে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের ‘২০ হোস্টেল প্রকল্প’-এর আওতায় নির্মাণ হতে যাওয়া দুটি ছাত্রী হোস্টেলের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। পাশাপাশি তিনি ক্যাম্পাসে বৃক্ষরোপণ করবেন এবং একটি বিশেষ আলোচনা সভায় অংশ নেবেন।
এ সফরে প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ও ঢাকা মেডিকেল কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী ডা. জুবাইদা রহমানও উপস্থিত থাকবেন বলে জানানো হয়েছে। তার উপস্থিতিকে ঘিরেও সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের মধ্যে বাড়তি আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে ঢাকা মেডিকেল কলেজে এখন উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। শিক্ষক, চিকিৎসক, কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীরা মনে করছেন, এই সফর প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘদিনের বিভিন্ন সমস্যা ও উন্নয়ন কার্যক্রমে নতুন গতি আনতে পারে।
শিক্ষার্থীদের মতে, ১৯৪৬ সালে প্রতিষ্ঠিত ঢাকা মেডিকেল কলেজ দেশের চিকিৎসা শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। স্বাধীনতা যুদ্ধ থেকে শুরু করে দেশের বিভিন্ন গণআন্দোলন ও সংকটময় সময়ে এ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও চিকিৎসকদের অবদান স্মরণীয় হয়ে আছে।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও বিএনপির স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম বলেন, ঐতিহাসিক এই প্রতিষ্ঠান দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দায়িত্বশীল ভূমিকা রেখেছে। তিনি জানান, ঢাকা মেডিকেলের অবকাঠামো উন্নয়ন ও আধুনিকায়নে অতীতেও বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও আরও উন্নয়ন প্রত্যাশা করছেন তারা।
ঢামেক শাখা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. বেলাল হোসেন নাজিম বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এই সফর প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও চিকিৎসকদের জন্য অনুপ্রেরণার বিষয়। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্য খাতে আরও উন্নয়নমূলক উদ্যোগ নেওয়া হবে।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ ছাত্র সংসদের (ঢামেকসু) সাবেক সাধারণ সম্পাদক (জিএস) এবং কার্ডিওলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. মাহমুদুর রহমান নোমান বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আগমন ডিএমসিয়ানদের জন্য গৌরব ও আবেগের মুহূর্ত। এই আয়োজন প্রতিষ্ঠানটির ঐতিহ্য, অবদান ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাকে নতুনভাবে তুলে ধরবে।
প্রতিষ্ঠার পর থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ দেশের চিকিৎসক তৈরির অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে আসছে। ৮০ বছর পূর্তির এই আয়োজনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির ঐতিহ্য ও ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা আরও সামনে আসবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
Leave a Reply