তিস্তা টিভি ডেস্ক
নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে পাকিস্তান, ভিয়েতনাম এবং জাতিসংঘের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। এসব বৈঠকে নিরাপত্তা সহযোগিতা, মাদক নিয়ন্ত্রণ, অভিবাসন ব্যবস্থাপনা, আন্তঃরাষ্ট্রীয় অপরাধ দমন, শান্তিরক্ষা কার্যক্রম এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (৭ জুলাই) জাতিসংঘ সদর দপ্তরে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্র ও মাদক নিয়ন্ত্রণবিষয়ক ফেডারেল মন্ত্রী সৈয়দ মহসিন নকভি, ভিয়েতনামের জননিরাপত্তা মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী সিনিয়র লেফটেন্যান্ট জেনারেল নগুয়েন ভ্যান লং এবং জাতিসংঘের রাজনৈতিক ও শান্তিনির্মাণবিষয়ক আন্ডার-সেক্রেটারি-জেনারেল রোজমেরি এ. ডি-কার্লোর সঙ্গে আলাদাভাবে বৈঠক করেন তিনি।
পাকিস্তানের ফেডারেল মন্ত্রী সৈয়দ মহসিন নকভির সঙ্গে বৈঠকে দুই দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ এবং নিরাপত্তা সহযোগিতা আরও জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পাকিস্তানে বসবাসরত বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নাগরিকদের ন্যাশনাল আইডেন্টিটি কার্ড (এনআইসি) প্রাপ্তির ক্ষেত্রে বিদ্যমান মানবিক জটিলতার বিষয়টি তুলে ধরেন।
বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটের প্রভাব, জ্বালানি নিরাপত্তা, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়েও আলোচনা করেন দুই মন্ত্রী। পাশাপাশি উভয় দেশের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং পারস্পরিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়েও মতবিনিময় হয়।
ভিয়েতনামের জননিরাপত্তা মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী নগুয়েন ভ্যান লংয়ের সঙ্গে বৈঠকে অভিবাসন ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন, কনস্যুলার সহযোগিতা বৃদ্ধি, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং মানবপাচারসহ আন্তঃরাষ্ট্রীয় অপরাধ মোকাবিলায় যৌথ উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
বৈঠকে ভিয়েতনামের উপমন্ত্রী জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের অবদানের প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে আন্তঃরাষ্ট্রীয় অপরাধ দমন ও আইনশৃঙ্খলা সহযোগিতার ক্ষেত্রে দুই দেশের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার আগ্রহ প্রকাশ করেন।
এছাড়া জাতিসংঘের রাজনৈতিক ও শান্তিনির্মাণবিষয়ক আন্ডার-সেক্রেটারি-জেনারেল রোজমেরি এ. ডি-কার্লোর সঙ্গে বৈঠকে বৈশ্বিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় বাংলাদেশের ভূমিকা তুলে ধরেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধান এবং বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও কার্যকর সহযোগিতা কামনা করেন।
রোজমেরি এ. ডি-কার্লো জাতিসংঘে বাংলাদেশের গঠনমূলক ভূমিকা, শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে অবদান এবং আন্তর্জাতিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের ধারাবাহিক প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এসব বৈঠককে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং নিরাপত্তা ও শান্তিনির্মাণে বাংলাদেশের সক্রিয় কূটনৈতিক ভূমিকার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
Leave a Reply