আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইরানকে ঘিরে আবারও কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, তেহরান যদি সমঝোতার শর্ত লঙ্ঘন অব্যাহত রাখে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে সামরিক হামলা চালাতে দ্বিধা করবে না। একই সঙ্গে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার অন্তর্বর্তী যুদ্ধবিরতি কার্যত আর কার্যকর নেই বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।
বুধবার (৮ জুলাই) আঙ্কারায় ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প এ মন্তব্য করেন। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠকের আগে তিনি বলেন, “আমি আগাম সতর্ক করে দিচ্ছি, আজ রাতেই আমরা তাদের ওপর খুব শক্তভাবে আঘাত হানতে পারি।”
ট্রাম্পের দাবি, ইরান বারবার যুদ্ধবিরতির শর্ত ভঙ্গ করছে এবং আলোচনার মাধ্যমে অর্জিত সমঝোতা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করছে না। তার ভাষায়, এ পরিস্থিতিতে বিদ্যমান যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যত শেষ হয়ে গেছে।
তবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে পূর্ণাঙ্গ সামরিক অভিযানে যাচ্ছে কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো অবস্থান জানাননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট। একইভাবে, সাময়িক যুদ্ধবিরতিকে স্থায়ী চুক্তিতে রূপ দিতে ভবিষ্যতে নতুন করে আলোচনা শুরু হবে কি না, সে বিষয়েও নির্দিষ্ট কোনো ইঙ্গিত দেননি তিনি।
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েও কড়া বার্তা দিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, “চুক্তি হলেও ইরানকে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সুযোগ দেওয়া হবে না। আর যদি কোনো চুক্তি না-ও হয়, তবুও আমরা সেই লক্ষ্য অর্জন করতে সক্ষম হব। সত্যি বলতে, সেটি হয়তো আরও সহজ হবে।”
ট্রাম্পের এই বক্তব্যের আগে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে নতুন দফায় সামরিক অভিযান পরিচালনা করে। পাশাপাশি তেহরানের তেল রপ্তানির ক্ষেত্রে কার্যকর থাকা একটি গুরুত্বপূর্ণ নিষেধাজ্ঞা-ছাড়ও বাতিল করে ওয়াশিংটন। বিশ্লেষকদের মতে, এসব পদক্ষেপ ইরানের ওপর অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক চাপ আরও বাড়াবে।
মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। অপরিশোধিত তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে, আর বৈশ্বিক বাজারে সরবরাহব্যবস্থা ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পেলে শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারেও এর ব্যাপক প্রভাব পড়তে পারে।
Leave a Reply