তিস্তা টিভি ডেস্ক
সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের অন্তত ১৬টি অঞ্চলে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়ার সঙ্গে বৃষ্টি ও বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। একই সঙ্গে দেশের আট বিভাগের বিভিন্ন স্থানে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা থাকায় জলাবদ্ধতা ও পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের ঝুঁকির বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে।
শনিবার (১১ জুলাই) ভোর ৫টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য প্রকাশিত পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রংপুর, দিনাজপুর, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, ঢাকা, ফরিদপুর, কুষ্টিয়া, যশোর, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি কিংবা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। এ কারণে সংশ্লিষ্ট এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তরের ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সর্বশেষ সতর্কবার্তায় জানানো হয়েছে, সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও আগামী ২৪ ঘণ্টায় ভারী (৪৪–৮৮ মিলিমিটার) থেকে অতি ভারী (৮৮ মিলিমিটারের বেশি) বৃষ্টিপাত হতে পারে।
আবহাওয়াবিদদের মতে, স্বল্প সময়ে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত হলে রাজধানী ঢাকা ও বন্দরনগরী চট্টগ্রামের নিচু এলাকায় সাময়িক জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হতে পারে। পাশাপাশি চট্টগ্রাম বিভাগের পাহাড়ি অঞ্চলে মাটিধস বা ভূমিধসের ঝুঁকিও বেড়ে যেতে পারে। তাই পাহাড়ের পাদদেশ ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সর্বশেষ আবহাওয়া পরিস্থিতি বিশ্লেষণে অধিদপ্তর জানায়, উত্তর-পশ্চিম মধ্যপ্রদেশ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপটি দুর্বল হয়ে বর্তমানে মধ্য উত্তরপ্রদেশ ও আশপাশের এলাকায় লঘুচাপে পরিণত হয়েছে এবং এটি আরও দুর্বল হতে পারে। তবে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় বায়ুচাপের তারতম্য এখনও উল্লেখযোগ্যভাবে সক্রিয় রয়েছে। এর প্রভাবে দেশের উপকূলীয় অঞ্চল এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরের ওপর দিয়ে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত বহাল রাখতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে চলাচল করতে বলা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জুলাই মাস মৌসুমি বৃষ্টিপাতের অন্যতম সক্রিয় সময় হওয়ায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মাঝেমধ্যেই ভারী বৃষ্টি, বজ্রঝড় ও দমকা হাওয়ার প্রবণতা দেখা দিতে পারে। তাই অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলা, বজ্রপাতের সময় খোলা মাঠ, বড় গাছ ও বৈদ্যুতিক খুঁটির কাছ থেকে দূরে থাকা এবং স্থানীয় প্রশাসন ও আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরবর্তী নির্দেশনা অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে কৃষকদের ক্ষেতের পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা রাখার পাশাপাশি নদীপথে চলাচলকারী নৌযানগুলোকে সতর্কতার সঙ্গে চলাচলের আহ্বান জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
Leave a Reply