তিস্তা টিভি ডেস্ক
দেশের কয়েকটি অঞ্চলে ভারী থেকে অতিভারি বৃষ্টির প্রভাবে আগামী তিন দিনে নদ-নদীর পানি দ্রুত বেড়ে যেতে পারে। এর ফলে উত্তর-পূর্ব, পূর্ব, দক্ষিণ-পূর্ব ও উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি এলাকায় আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা করছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।
বুধবার (৮ জুলাই) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টায় ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে দেশের চট্টগ্রাম, সিলেট, ময়মনসিংহ ও রংপুর বিভাগের বিভিন্ন নদীর পানি বৃদ্ধি পেতে পারে। কোথাও কোথাও নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে।
আবহাওয়া পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে সংস্থাটি জানিয়েছে, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের প্রভাবে গত কয়েক দিন ধরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাপক বৃষ্টিপাত হচ্ছে। এর মধ্যে চট্টগ্রামে গত ২৪ ঘণ্টায় ৩৯৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে ভারী বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে আগামী শনিবার পর্যন্ত।
ভারী বর্ষণের পাশাপাশি ভারতের মেঘালয়, ত্রিপুরাসহ উজানের এলাকাগুলোতেও বৃষ্টিপাত হওয়ায় দেশের সীমান্তবর্তী নদীগুলোর পানি বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, নেত্রকোনা, শেরপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম, ফেনী, কক্সবাজার, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান, নীলফামারী, লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রামের কিছু এলাকায় নদীর পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে বা অতিক্রম করতে পারে।
বিশেষ করে সুরমা-কুশিয়ারা, গোমতী, মুহুরী, ফেনী, সাঙ্গু, মাতামুহুরী, দুধকুমার ও ধরলাসহ কয়েকটি নদীর পানি দ্রুত বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে বলেও পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী সরদার উদয় রায়হান জানান, ভারী বৃষ্টির কারণে যে আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে, তা প্রায় তিন দিন স্থায়ী হতে পারে। এরপর শনিবার থেকে পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে বর্তমানে দেশের প্রধান নদ-নদীর পানি এখনো বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আবহাওয়া ও নদীর পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অতিভারি বৃষ্টি ও উজানের ঢল একসঙ্গে দেখা দিলে পাহাড়ি ও নিম্নাঞ্চলে আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাই ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
Leave a Reply