ক্রীড়া ডেস্ক
বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে সফল দল, পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের ২০২৬ বিশ্বকাপ অভিযান শেষ হয়ে গেছে শেষ ষোলোতেই। নরওয়ের কাছে পরাজয়ের মাধ্যমে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেওয়ায় ৩৬ বছর পর আবারও বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের প্রথম ধাপেই থেমে যেতে হলো সেলেসাওদের।
এর আগে সর্বশেষ ১৯৯০ সালের ইতালি বিশ্বকাপে শেষ ষোলো থেকেই বিদায় নিয়েছিল ব্রাজিল। সেবার চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টিনার কাছে ১-০ গোলে হেরে বিশ্বকাপ শেষ করতে হয়েছিল তাদের। এরপর দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে বিশ্বকাপে ধারাবাহিকভাবে নিজেদের শক্তিমত্তার প্রমাণ দিয়েছে ব্রাজিল।
১৯৯৪ থেকে ২০২২—টানা আটটি বিশ্বকাপে অন্তত কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছেছিল সেলেসাওরা। এই সময়ে তারা দুটি বিশ্বকাপ শিরোপা জয় করে—১৯৯৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রে এবং ২০০২ সালে দক্ষিণ কোরিয়া-জাপানে। এছাড়া ১৯৯৮ সালে রানার্সআপ হয় ব্রাজিল, ২০১৪ সালে নিজেদের মাটিতে সেমিফাইনাল খেললেও জার্মানির বিপক্ষে ঐতিহাসিক ৭-১ ব্যবধানে হারের তিক্ত স্মৃতি নিয়ে টুর্নামেন্ট শেষ করতে হয়। ২০০৬, ২০১০, ২০১৮ ও ২০২২—এই চার আসরেই তাদের যাত্রা থেমেছে কোয়ার্টার ফাইনালে।
কিন্তু ২০২৬ বিশ্বকাপে সেই দীর্ঘ ধারাবাহিকতায় ইতি টানল নরওয়ে। শেষ ষোলোর বাধা অতিক্রম করতে না পারায় ১৯৯০ সালের পর এই প্রথম এত দ্রুত বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিতে হলো ব্রাজিলকে। ফলে টানা আটটি আসরে কোয়ার্টার ফাইনাল বা তারও বেশি দূর যাওয়ার যে রেকর্ড ছিল, সেটিও ভেঙে গেল।
বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম পরাশক্তি এবং পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল এবারও শিরোপার অন্যতম দাবিদার হিসেবে বিশ্বকাপ শুরু করেছিল। তবে প্রত্যাশার সঙ্গে বাস্তবতার মিল ঘটাতে পারেনি সেলেসাওরা। নকআউট পর্বের শুরুতেই বিদায় নেওয়ায় সমর্থকদের হতাশা যেমন বেড়েছে, তেমনি ব্রাজিলিয়ান ফুটবলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
Leave a Reply