তিস্তা টিভি ডেস্ক
সারা দেশে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে শুরু হয়েছে ২০২৬ সালের উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা। একই দিনে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের আলিম এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষাও শুরু হলেও এসব বোর্ডে পৃথক প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
সকাল ১০টায় শুরু হয়ে পরীক্ষা চলবে দুপুর ১টা পর্যন্ত। প্রথম দিন থেকেই পরীক্ষাকেন্দ্রগুলোতে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও ডিজিটাল নজরদারি জোরদার করা হয়েছে, যাতে সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও নকলমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা যায়।
এ বছর মোট ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। এর মধ্যে ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে পরীক্ষার্থী ১০ লাখ ৬৯ হাজার ৭১৪ জন, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে ৯২ হাজার ৯০৫ জন এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে ১ লাখ ৭ হাজার ৯৬৪ জন।
প্রথম দিনের পরীক্ষায় সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের শিক্ষার্থীরা বাংলা প্রথমপত্রে অংশ নিচ্ছে। মাদ্রাসা বোর্ডে আলিম পর্যায়ে কোরআন মাজিদ এবং কারিগরি বোর্ডে এইচএসসি (বিএমটি) শাখার বাংলা–২ বিষয়ের পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে।
পরীক্ষা ব্যবস্থাপনায় এবার বিশেষ নজরদারির ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সব কেন্দ্রেই সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রথমবারের মতো দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তাদের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে বডিওর্ন ক্যামেরা। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে গঠন করা হয়েছে কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেল, যেখান থেকে সারাদেশের পরীক্ষাকেন্দ্রের কার্যক্রম সরাসরি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এবারের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় মোট ৭৭টি বিষয়ে ২১ দিনে লিখিত পরীক্ষা সম্পন্ন হবে। সাধারণ ও মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের লিখিত পরীক্ষা শেষ হবে আগামী ৮ আগস্ট। এরপর ১৫ আগস্ট পর্যন্ত চলবে ব্যবহারিক পরীক্ষা। কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের তাত্ত্বিক পরীক্ষা জুলাই থেকে আগস্টের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত চলবে।
এ বছর দেশের ৯ হাজার ৪৩৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে পরীক্ষার্থীরা অংশ নিচ্ছে। পরীক্ষাকেন্দ্রের সংখ্যা ২ হাজার ৬৯৭টি। এর মধ্যে সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ১ হাজার ৬২৬টি কেন্দ্র, মাদ্রাসা বোর্ডের অধীনে ৪৬১টি এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৬১০টি কেন্দ্র রয়েছে।
বোর্ডভিত্তিক পরিসংখ্যানে সবচেয়ে বেশি পরীক্ষার্থী রয়েছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে। এ বোর্ডে ৩ লাখ ৩৯৩ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। এছাড়া রাজশাহী বোর্ডে ১ লাখ ৪০ হাজার ৮৩০ জন, যশোরে ১ লাখ ১৭ হাজার ২১০ জন, দিনাজপুরে ১ লাখ ১৩ হাজার ৪৭৯ জন, চট্টগ্রামে ৯৯ হাজার ৬৮৮ জন, কুমিল্লায় ৯৪ হাজার ৮০২ জন, ময়মনসিংহে ৭৩ হাজার ৩৭ জন, সিলেটে ৭১ হাজার ৭১১ জন এবং বরিশালে ৫৮ হাজার ৬৬৪ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। কেন্দ্রগুলোতে নজরদারি ও ব্যবস্থাপনা আরও জোরদার করা হয়েছে, যাতে কোনো ধরনের অনিয়ম বা প্রশ্নপত্র ফাঁসের সুযোগ না থাকে।
Leave a Reply