ক্রীড়া ডেস্ক
২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে দুর্দান্ত ছন্দে এগিয়ে চলেছে দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স। রাউন্ড অব ৩২-এর লড়াইয়ে সুইডেনকে ৩-০ গোলে পরাজিত করে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে দিদিয়ের দেশমের দল। নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আধিপত্য বিস্তার করে খেলেছে ফরাসিরা।
এই জয়ের মধ্য দিয়ে শুধু নকআউট পর্বে জায়গা করে নেয়নি ফ্রান্স, বিশ্বকাপের ইতিহাসেও গড়েছে এক অনন্য রেকর্ড। ১৯৩০ সালে বিশ্বকাপ শুরুর পর এই প্রথম কোনো দল টানা পাঁচটি বিশ্বকাপ ম্যাচে অন্তত তিনটি করে গোল করার কীর্তি গড়ল।
ফ্রান্সের এই গোল উৎসবের শুরু হয়েছিল ২০২২ বিশ্বকাপের ফাইনাল থেকেই। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে সেই রোমাঞ্চকর ফাইনালে নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময় শেষে ৩-৩ সমতায় ছিল ম্যাচ। যদিও টাইব্রেকারে পরাজিত হয়ে শিরোপা হাতছাড়া করতে হয়েছিল কিলিয়ান এমবাপ্পেদের। তবে সেদিনের তিন গোল যেন তাদের আক্রমণাত্মক ধারার ভিত্তি হয়ে দাঁড়ায়।
চলতি বিশ্বকাপেও সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে ফরাসিরা। গ্রুপ পর্বে প্রথম ম্যাচে সেনেগালকে ৩-১ গোলে হারানোর পর ইরাককে ৩-০ এবং নরওয়েকে ৪-১ গোলে বিধ্বস্ত করে তারা। এরপর সুইডেনের বিপক্ষেও তিন গোলের জয় তুলে নিয়ে টানা পঞ্চম ম্যাচে অন্তত তিনবার প্রতিপক্ষের জাল কাঁপানোর বিরল কীর্তি গড়ে।
সুইডেনের বিপক্ষে ম্যাচে শুরু থেকেই বলের নিয়ন্ত্রণ ও আক্রমণে ছিল ফ্রান্সের একচ্ছত্র আধিপত্য। কিলিয়ান এমবাপ্পে ছিলেন দলের সবচেয়ে উজ্জ্বল তারকা। জোড়া গোল করে ম্যাচের ভাগ্য প্রায় একাই নির্ধারণ করে দেন তিনি। অপর গোলটি করেন তরুণ ফরোয়ার্ড ব্রাডলে বার্কোলা। তাদের গতিময় আক্রমণ, দ্রুত পাসিং এবং নিখুঁত ফিনিশিংয়ের সামনে সুইডেনের রক্ষণভাগ বারবার অসহায় হয়ে পড়ে।
বিশেষ করে এমবাপ্পের নেতৃত্বে ফরাসি আক্রমণভাগ বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম ভয়ংকর ইউনিটে পরিণত হয়েছে। তার গতি, দক্ষতা ও গোল করার ক্ষমতার সঙ্গে দেম্বেলে, বার্কোলা ও মধ্যমাঠের সৃজনশীলতা ফ্রান্সকে প্রতিপক্ষের জন্য বড় হুমকিতে পরিণত করেছে।
২০২২ সালে শিরোপার খুব কাছে গিয়েও ব্যর্থ হওয়ার পর এবার যেন আরও ক্ষুধার্ত ফ্রান্স। মাঠের পারফরম্যান্সে স্পষ্ট, তারা শুধু ভালো ফুটবল খেলতেই আসেনি; বিশ্বকাপ পুনরুদ্ধারের লক্ষ্য নিয়েই লড়ছে। প্রতিটি ম্যাচেই আক্রমণাত্মক মানসিকতা, আত্মবিশ্বাস এবং কার্যকর ফুটবল খেলছে দেশমের শিষ্যরা।
বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে উঠলেও এখনই সন্তুষ্ট হওয়ার সুযোগ নেই ফ্রান্সের। সামনে আরও কঠিন প্রতিপক্ষ অপেক্ষা করছে। তবে বর্তমান ফর্ম, গোল করার ধারাবাহিকতা এবং আত্মবিশ্বাস বিবেচনায় এবারের আসরে শিরোপার অন্যতম দাবিদার হিসেবে নিজেদের শক্ত অবস্থান আরও দৃঢ় করেছে দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
Leave a Reply