ক্রীড়া ডেস্ক
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এ দাপট দেখিয়ে চলেছেন ফ্রান্সের অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে। প্রতিটি ম্যাচেই নতুন রেকর্ডে নিজের নাম যুক্ত করছেন এই তারকা ফরোয়ার্ড। মঙ্গলবার (৩০ জুন) রাউন্ড অব ৩২-এর ম্যাচে সুইডেনের বিপক্ষে জোড়া গোল করে আবারও আলোচনার কেন্দ্রে তিনি।
মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে এমবাপ্পের দুই গোল ও মাইকেল অলিসের তিনটি অ্যাসিস্টে ভর করে সুইডেনকে ৩-০ ব্যবধানে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করে ফ্রান্স। ম্যাচজুড়ে গতি, ড্রিবলিং ও নিখুঁত ফিনিশিংয়ে প্রতিপক্ষ রক্ষণভাগকে একাধিকবার বিপর্যস্ত করেন তিনি।
এই দুই গোলের মাধ্যমে বিশ্বকাপ ইতিহাসে একাধিক মাইলফলক ছুঁয়ে ফেলেন এমবাপ্পে। সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসাকে ছাড়িয়ে এখন তার বিশ্বকাপে গোল সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৮-তে।
শুধু তাই নয়, বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায়ও এককভাবে শীর্ষে উঠে গেছেন ফরাসি অধিনায়ক। নকআউট ম্যাচে তার গোল সংখ্যা এখন ১০, যা তাকে বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।
এই তালিকায় এতদিন শীর্ষে ছিলেন ব্রাজিলের রোনালদো নাজারিও ও লিওনিদাস, যাদের গোল সংখ্যা ছিল ৮টি করে। তাদের ছাড়িয়ে এখন এককভাবে শীর্ষে এমবাপ্পে। তালিকার পরের অবস্থানে আছেন ফ্রান্সের জ্যুস্ত ফন্তেন ও ব্রাজিলের পেলে, যাদের নকআউট গোল ৭টি করে।
অন্যদিকে, বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা লিওনেল মেসি (১৯ গোল) হলেও নকআউট পর্বে তার গোল সংখ্যা ৫টি। আর পর্তুগালের ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো এখনো বিশ্বকাপের নকআউট ম্যাচে কোনো গোল করতে পারেননি—যা ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম চমক হিসেবে ধরা হয়।
চলতি আসরে এটি এমবাপ্পের ষষ্ঠ গোল। ফলে গোল্ডেন বুটের দৌড়েও তিনি সমানে সমান অবস্থানে আছেন একাধিক তারকার সঙ্গে। বিশেষ করে সুইডেনের বিপক্ষে তার দুটি গোল আসে দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাক ও নিখুঁত ফিনিশিংয়ের মাধ্যমে, যেখানে প্রতিপক্ষ গোলরক্ষক কিছুই করার সুযোগ পাননি।
ম্যাচ শেষে ফ্রান্সের কোচ দিদিয়ের দেশম বলেন, এমবাপ্পে এখন শুধু একজন খেলোয়াড় নন, বরং ইতিহাস নির্মাতা। তার মতে, চাপের ম্যাচেও এমবাপ্পের ধারাবাহিক পারফরম্যান্স তাকে আলাদা স্তরে নিয়ে গেছে।
এদিকে, সুইডেনকে হারিয়ে ১৯৯৮ সালের পর বিশ্বকাপে নকআউট পর্বে সবচেয়ে বড় জয় পেয়েছে ফ্রান্স। পরবর্তী রাউন্ডে আগামী ৪ জুলাই প্যারাগুয়ের মুখোমুখি হবে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
ফুটবলবিশ্ব এখন তাকিয়ে আছে এমবাপ্পের দিকে—তিনি কি এই ধারাবাহিকতা ধরে রেখে বিশ্বকাপ ইতিহাসে আরেকটি নতুন অধ্যায় লিখতে পারবেন?
Leave a Reply