ক্রীড়া ডেস্ক
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ ধীরে ধীরে প্রবেশ করছে সবচেয়ে রোমাঞ্চকর পর্যায়ে। নকআউট লড়াই শুরু হতেই শিরোপাপ্রত্যাশী দলগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতা আরও জমে উঠেছে। ইতোমধ্যে কানাডা, ব্রাজিল, ফ্রান্স, মরক্কো, নরওয়ে, মেক্সিকো ও প্যারাগুয়ে শেষ ষোলোতে জায়গা নিশ্চিত করেছে। অন্যদিকে জার্মানি, নেদারল্যান্ডস, জাপান ও দক্ষিণ আফ্রিকার মতো কয়েকটি শক্তিশালী দল বিদায় নিয়েছে টুর্নামেন্ট থেকে।
এবারের আসরে ফুটবলপ্রেমীদের সবচেয়ে বড় আকাঙ্ক্ষা একটিই—ফাইনালে মুখোমুখি হোক লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা এবং ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পর্তুগাল। বিশ্ব ফুটবলের দুই কিংবদন্তির ক্যারিয়ারের শেষদিকে এসে বিশ্বকাপের শিরোপা লড়াইয়ে তাদের মুখোমুখি দেখার অপেক্ষায় রয়েছে কোটি কোটি সমর্থক।
বর্তমান নকআউট সূচি অনুযায়ী দুই দল ভিন্ন অংশে অবস্থান করায় তাদের দেখা হওয়ার একমাত্র সম্ভাবনা ফাইনালে। অর্থাৎ আর্জেন্টিনা ও পর্তুগাল যদি নিজেদের সব ম্যাচ জিতে ফাইনালে পৌঁছাতে পারে, তবেই বাস্তবে রূপ নেবে বহুল আলোচিত এই ‘ড্রিম ফাইনাল’। অন্যথায় দুই দলের দেখা হতে পারে কেবল তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে, যদি উভয়েই সেমিফাইনালে হেরে যায়।
তবে সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথ মোটেও সহজ নয়। শেষ ৩২ থেকে শুরু করে শিরোপা পর্যন্ত প্রতিটি ম্যাচই হবে নকআউট। একটি পরাজয়ই শেষ করে দেবে বিশ্বকাপ অভিযান। তাই মেসি ও রোনালদোর ফাইনাল দেখতে হলে দুই দলকেই টানা চারটি কঠিন ম্যাচে জয় তুলে নিতে হবে।
পরবর্তী রাউন্ডে তুলনামূলক সহজ প্রতিপক্ষ পেয়েছে আর্জেন্টিনা। বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের সামনে রয়েছে প্রথমবারের মতো নকআউটে ওঠা কেপ ভার্দে। অন্যদিকে পর্তুগালের সামনে অপেক্ষা করছে অভিজ্ঞ ও শক্তিশালী ক্রোয়েশিয়া, যারা বড় আসরে চমক দেখানোর জন্য পরিচিত।
অন্যদিকে, সম্ভাব্য স্বপ্নের ফাইনালের সবচেয়ে বড় হুমকি হয়ে উঠেছেন ফ্রান্সের অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে। দুর্দান্ত ফর্মে থাকা এই ফরোয়ার্ড ইতোমধ্যেই চলতি বিশ্বকাপে গোলের বন্যা বইয়ে দিচ্ছেন এবং বিশ্বকাপের নকআউট ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে উঠে এসেছেন। তার নেতৃত্বে ফ্রান্সকে অনেকেই শিরোপার অন্যতম দাবিদার হিসেবে দেখছেন।
সম্ভাব্য সূচি অনুযায়ী ফ্রান্স ও পর্তুগাল নিজেদের পরবর্তী ম্যাচগুলো জিততে পারলে সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে। সেই ম্যাচে এমবাপ্পের ফ্রান্স যদি রোনালদোর দলকে হারায়, তাহলে পর্তুগালের বিশ্বকাপ স্বপ্ন শেষ হয়ে যাবে এবং বহু প্রতীক্ষিত মেসি-রোনালদো ফাইনালও আর সম্ভব হবে না।
অন্যদিকে ফ্রান্স ও আর্জেন্টিনা যদি নিজ নিজ পথে জয় ধরে রাখে, তাহলে আবারও দেখা যেতে পারে ২০২২ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালের পুনরাবৃত্তি। চার বছর আগে কাতারে রোমাঞ্চকর সেই ফাইনালে টাইব্রেকারে ফ্রান্সকে হারিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছিল আর্জেন্টিনা। এবার এমবাপ্পে সেই হারের প্রতিশোধ নিতে মুখিয়ে থাকবেন বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে পরপর দুই আসরে একই দুই দলের ফাইনাল খেলার নজির খুবই বিরল। এর আগে ১৯৮৬ ও ১৯৯০ সালে টানা দুই বিশ্বকাপের ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল আর্জেন্টিনা ও তৎকালীন পশ্চিম জার্মানি। এবার সেই ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি হবে কি না, তা নির্ভর করছে আগামী কয়েকটি নকআউট ম্যাচের ফলাফলের ওপর।
বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে শেষ পর্যন্ত কারা ফাইনালে উঠবে এবং কার হাতে উঠবে সোনালি ট্রফি—সেই উত্তর মিলবে আগামী কয়েক দিনের লড়াই শেষে। তবে আপাতত ফুটবলপ্রেমীদের কল্পনায় সবচেয়ে বড় জায়গা জুড়ে আছে একটি সম্ভাবনা—মেসি বনাম রোনালদো, বিশ্বকাপের মহারণ।
Leave a Reply