তিস্তা টিভি ডেস্ক
সারা দেশে আজ (বৃহস্পতিবার) শুরু হচ্ছে ২০২৬ সালের উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা। ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের পাশাপাশি মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের আলিম এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের সমমানের পরীক্ষাও একই দিনে শুরু হচ্ছে। এবার তিন বোর্ড মিলিয়ে মোট ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছেন।
সকাল ১০টায় পরীক্ষা শুরু হয়ে চলবে দুপুর ১টা পর্যন্ত। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, পরীক্ষার্থীদের অবশ্যই পরীক্ষা শুরুর অন্তত ৩০ মিনিট আগে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে হবে। সকাল সাড়ে ৮টা থেকে পরীক্ষার্থীদের কেন্দ্রে প্রবেশের সুযোগ থাকবে। বিশেষ পরিস্থিতিতে নির্ধারিত সময়ের পরে উপস্থিত হলে কারণ রেজিস্টারে লিপিবদ্ধ করে কেন্দ্র সচিবের অনুমতিক্রমে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে।
প্রথম দিনের পরীক্ষায় সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে বাংলা প্রথমপত্র, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে আলিমের কোরআন মাজিদ এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে এইচএসসি (বিএমটি) শাখার বাংলা-২ বিষয়ের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।
এবার পরীক্ষা সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও নকলমুক্ত রাখতে নেওয়া হয়েছে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা। শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের প্রতিটি পরীক্ষাকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি মন্ত্রণালয়ে গঠন করা হয়েছে কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেল, যেখান থেকে দেশের সব পরীক্ষাকেন্দ্রের কার্যক্রম সরাসরি পর্যবেক্ষণ করা হবে। পরীক্ষাকেন্দ্রে দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যদের কাছেও থাকবে বডি-ওয়ার্ন ক্যামেরা।
পরীক্ষার সূচি অনুযায়ী, ৭৭টি বিষয়ে মোট ২১ দিনে লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। সাধারণ ও মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের লিখিত পরীক্ষা শেষ হবে আগামী ৮ আগস্ট এবং ১৫ আগস্ট পর্যন্ত ব্যবহারিক পরীক্ষা চলবে। অন্যদিকে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের বিভিন্ন কোর্সের তাত্ত্বিক পরীক্ষা জুলাই ও আগস্টের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত চলবে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এবার দেশের ৯ হাজার ৪৩৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ২ হাজার ৬৯৭টি পরীক্ষাকেন্দ্রে পরীক্ষায় অংশ নেবে। এর মধ্যে ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ১০ লাখ ৬৯ হাজার ৭১৪ জন শিক্ষার্থী ১ হাজার ৬২৬টি কেন্দ্রে পরীক্ষা দেবে। মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের ৪৬১টি কেন্দ্রে অংশ নেবে ৯২ হাজার ৯০৫ জন এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের ৬১০টি কেন্দ্রে পরীক্ষায় অংশ নেবে ১ লাখ ৭ হাজার ৯৬৪ জন শিক্ষার্থী।
বোর্ডভিত্তিক পরিসংখ্যানে এবারও সবচেয়ে বেশি পরীক্ষার্থী ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে। এ বোর্ডে ৩ লাখ ৩৯৩ জন শিক্ষার্থী ৩১০টি কেন্দ্রে পরীক্ষা দেবে। এছাড়া রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে ১ লাখ ৪০ হাজার ৮৩০, যশোরে ১ লাখ ১৭ হাজার ২১০, দিনাজপুরে ১ লাখ ১৩ হাজার ৪৭৯, চট্টগ্রামে ৯৯ হাজার ৬৮৮, কুমিল্লায় ৯৪ হাজার ৮০২, ময়মনসিংহে ৭৩ হাজার ৩৭, সিলেটে ৭১ হাজার ৭১১ এবং বরিশাল শিক্ষা বোর্ডে ৫৮ হাজার ৬৬৪ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেবে।
শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, সংশোধিত পাবলিক পরীক্ষা আইন অনুসারে এবার পরীক্ষা পরিচালিত হবে। প্রশ্নফাঁস, নকল বা যেকোনো ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো পরীক্ষার্থী নকলের সঙ্গে জড়িত থাকলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। একইভাবে কোনো পরীক্ষাকেন্দ্রে অনিয়মের প্রমাণ মিললে দায়ীদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা জোরদার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) পরীক্ষা চলাকালে প্রতিটি কেন্দ্রের ২০০ গজের মধ্যে পরীক্ষার্থী ও পরীক্ষা-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ছাড়া অন্যদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। একই সঙ্গে যানজট এড়াতে পরীক্ষার্থীদের সময় হাতে নিয়ে বের হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ব্যক্তিগত গাড়িতে কেন্দ্রে এলে কেন্দ্রের সামনে না নেমে কাছাকাছি নিরাপদ স্থানে নেমে হেঁটে কেন্দ্রে যাওয়ারও অনুরোধ জানিয়েছে ডিএমপি।
এদিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যেসব দিনে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে না, সেসব দিনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত শ্রেণি কার্যক্রম চালু থাকবে। নকলের অভিযোগে কয়েকটি ভেন্যু কেন্দ্র বাতিল করা হলেও দুর্গম ও পার্বত্য অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনায় কিছু কেন্দ্র বহাল রাখা হয়েছে। এছাড়া সেভেন্থ-ডে অ্যাডভেন্টিস্ট সম্প্রদায়ের পরীক্ষার্থীদের জন্য শনিবারের পরীক্ষা সূর্যাস্তের পর বিশেষ ব্যবস্থায় গ্রহণ করা হবে।
Leave a Reply