তিস্তা টিভি ডেস্ক
ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজায় বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে তেহরানের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকাল সাড়ে ৭টায় তিনি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ইরানের রাজধানী তেহরানের উদ্দেশে যাত্রা করেন।
সরকারি সফরসূচি অনুযায়ী, স্পিকার খামেনির জানাজা ও সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠানে অংশ নেবেন। সফর শেষে আগামী ৪ জুলাই তার দেশে ফেরার কথা রয়েছে।
আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ১৯৩৯ সালের ১৯ এপ্রিল উত্তর-পূর্ব ইরানের পবিত্র নগরী মাশহাদে জন্মগ্রহণ করেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক ও ধর্মীয় জীবনে তিনি ইরানের অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হন। ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি ৮৬ বছর বয়সে তার মৃত্যু হয়, যা দেশটির রাজনৈতিক ও ধর্মীয় অঙ্গনে এক যুগের অবসান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর নতুন রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। বিপ্লব-পরবর্তী সময়ে ১৯৮০ সালে স্বল্প সময়ের জন্য প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। একই বছর ইরান-ইরাক যুদ্ধ শুরু হলে তিনি ইসলামী বিপ্লবী বাহিনীর তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং পরবর্তীতে ইরানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন।
১৯৮৯ সালে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের প্রতিষ্ঠাতা নেতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির মৃত্যুর পর দেশটির বিশেষজ্ঞ পরিষদ (অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস) তাকে সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা হিসেবে নির্বাচিত করে। এরপর টানা কয়েক দশক ধরে তিনি ইরানের রাষ্ট্রনীতি, পররাষ্ট্রনীতি, প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার সর্বোচ্চ কর্তৃত্ব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
তার নেতৃত্বে ইরান আঞ্চলিক রাজনীতি, পারমাণবিক কর্মসূচি, পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে সম্পর্ক এবং মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তার মৃত্যুতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান, রাজনৈতিক নেতা এবং ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব শোক প্রকাশ করেছেন। জানাজা উপলক্ষে তেহরানে বিভিন্ন দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল অংশ নিচ্ছে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জাতীয় সংসদের স্পিকারের এই সফর দুই দেশের বিদ্যমান কূটনৈতিক সম্পর্কের ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবেও গুরুত্ব বহন করছে।
Leave a Reply