ক্রীড়া ডেস্ক
২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে নরওয়ের বিপক্ষে শুরুতেই বড় সুযোগ পেয়েছিল ব্রাজিল। ম্যাচের প্রথম দিকেই ভিএআর পর্যালোচনার পর সেলেসাওদের পক্ষে একটি পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। বল হাতে নিয়ে প্রথমে পেনাল্টি স্পটের দিকে এগিয়ে যান ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। স্বাভাবিকভাবেই অনেকের ধারণা ছিল, তিনিই শট নেবেন। কিন্তু শেষ মুহূর্তে তিনি বল তুলে দেন মিডফিল্ডার ব্রুনো গিমারায়েসের হাতে।
ব্রুনো নিজের স্বাভাবিক ভঙ্গিতে ধীরগতির রান-আপ নিয়ে ডান পায়ের শট নেন গোলরক্ষকের ডান দিকে। তবে নরওয়ের গোলরক্ষক দুর্দান্ত সেভ করে ব্রাজিলকে কাঙ্ক্ষিত লিড নিতে দেননি। সেই মুহূর্ত থেকেই প্রশ্ন উঠেছে—ভিনিসিয়ুস নিজে পেনাল্টি না নিয়ে কেন ব্রুনোকে দায়িত্ব দিলেন?
যদিও ম্যাচ শেষে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি, তবু বিষয়টি তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত ছিল বলে মনে হয় না। বরং ব্রাজিলের নির্ধারিত পেনাল্টি টেকারের পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই ব্রুনোকে দায়িত্ব দেওয়া হয়ে থাকতে পারে।
ব্রুনো গিমারায়েসের সেট-পিস দক্ষতা নতুন কিছু নয়। ক্লাব ফুটবলে নিউক্যাসল ইউনাইটেডের হয়ে তিনি নিয়মিত ফ্রি-কিক নেন এবং ব্রাজিল জাতীয় দলের হয়েও একাধিকবার ডেড-বল পরিস্থিতিতে দায়িত্ব পালন করেছেন। ক্যারিয়ারে এর আগে নেওয়া তিনটি পেনাল্টির প্রতিটিতেই সফল ছিলেন তিনি। তবে জাতীয় দলের জার্সিতে এটিই ছিল তার প্রথম পেনাল্টি, আর সেটিই শেষ পর্যন্ত লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।
অন্যদিকে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের পেনাল্টি পরিসংখ্যান খুব একটা নিখুঁত নয়। ক্লাব ও জাতীয় দল মিলিয়ে ক্যারিয়ারে ১৯টি পেনাল্টির মধ্যে ১৩টিতে গোল করেছেন তিনি। তবে ব্রাজিলের হয়ে তার রেকর্ড আরও দুর্বল—এর আগে নেওয়া তিনটি পেনাল্টির মধ্যে মাত্র একটিতে সফল হয়েছিলেন। সেই পরিসংখ্যানও হয়তো তাকে পেনাল্টি নেওয়া থেকে বিরত থাকতে প্রভাবিত করেছে।
তবে ভিনিসিয়ুসের সিদ্ধান্তের পেছনে আসল কারণ কী ছিল, তা নিশ্চিতভাবে জানা যাবে কেবল খেলোয়াড় বা কোচিং স্টাফের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের পরই। কিন্তু ব্রুনোর মিস করা সেই পেনাল্টি যে ম্যাচের গতিপথে বড় প্রভাব ফেলেছে, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।
Leave a Reply