ক্রীড়া ডেস্ক
অনেকটা অনুমিতই ছিল সিদ্ধান্তটি, আর নরওয়ের কাছে ২–১ গোলে ব্রাজিলের হারের পর সেটিই যেন চূড়ান্তভাবে ঘোষণা করলেন নেইমার জুনিয়র। এবারের বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে বিদায়ের পরই সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় দলের ভবিষ্যৎ নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন ব্রাজিলিয়ান এই কিংবদন্তি।
ম্যাচ শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে আবেগঘন কণ্ঠে নেইমার বলেন, “আমি চেষ্টা করেছি। আমি চেষ্টা করেছি। মেটলাইফ স্টেডিয়ামে শুরু হয়েছিল, এখানেই শেষ হলো। এখন সব শেষ।”
এই ঘোষণার মধ্য দিয়েই কার্যত ব্রাজিল জাতীয় দলের জার্সিতে নেইমারের দীর্ঘ পথচলার ইতি ঘটল। দেশের হয়ে তিনি ৮০টি গোল করেছেন, যা ব্রাজিলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড। দীর্ঘ সময় ধরে তিনি ছিলেন সেলেসাওদের আক্রমণভাগের প্রধান ভরসা।
তবে বিশ্বকাপ ট্রফি ছুঁয়ে দেখা হয়নি তার ক্যারিয়ারে। ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে বহু অর্জন থাকলেও সবচেয়ে বড় স্বপ্নটি অধরাই রয়ে গেল। ২০১৩ সালে ব্রাজিলকে ফিফা কনফেডারেশন্স কাপ জেতাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন নেইমার এবং সেই টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কারও জিতেছিলেন তিনি।
কোপা আমেরিকায় তার সবচেয়ে বড় সাফল্য আসে ২০২১ সালে, যখন ব্রাজিল ফাইনালে পৌঁছালেও আর্জেন্টিনার কাছে শিরোপা হারাতে হয়। বিশ্বকাপে তিনি ২০১৪ সালে দলের সেমিফাইনাল পর্যন্ত যাত্রার অংশ ছিলেন, যদিও ইনজুরির কারণে সেই ম্যাচে খেলতে পারেননি। পরবর্তী আসরগুলোতে ব্রাজিল কোয়ার্টার ফাইনাল ও শেষ ষোলোর ধাপে বিদায় নেয়।
সবশেষ ২০২৬ বিশ্বকাপে নরওয়ের বিপক্ষে শেষ ষোলোতেই থেমে যায় ব্রাজিলের যাত্রা। সেই ম্যাচের পরই জাতীয় দলের ভবিষ্যৎ নিয়ে নিজের অবস্থান জানান নেইমার, যা কার্যত তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের সমাপ্তি টেনে দিল।
যে স্বপ্ন নিয়ে সেলেসাও জার্সি গায়ে তুলেছিলেন, তা পূরণ হয়নি বিশ্বকাপ জেতার মাধ্যমে। তবুও ব্রাজিল ফুটবলের ইতিহাসে তিনি রয়ে যাবেন অন্যতম উজ্জ্বল তারকা হিসেবে—একজন গোলমেশিন, একজন সৃষ্টিশীল খেলোয়াড় এবং এক যুগের প্রতীক হয়ে।
Leave a Reply