তিস্তা টিভি ডেস্ক
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী ঘিরে মাসব্যাপী নানা কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। একই সঙ্গে আন্দোলনের প্রেক্ষাপট ও বাস্তবায়ন দাবিকে সামনে রেখে তিন দফা দাবি উত্থাপন করেছে দলটি।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) জাতীয় প্রেস ক্লাবের আবদুস সালাম হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কর্মসূচি ও দাবি উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।
তিনি জানান, জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে স্মরণ ও এর তাৎপর্য তুলে ধরতে ২ জুলাই থেকে ৪ আগস্ট পর্যন্ত দেশব্যাপী ধারাবাহিক কর্মসূচি পালন করা হবে।
ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, ২ থেকে ৯ জুলাই পর্যন্ত রাজধানীতে জুলাই আন্দোলনের শহীদ, আহত ও পঙ্গু পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করা হবে। একই সময়ে আন্দোলনের স্মৃতিবিজড়িত স্থানগুলোতে স্মৃতিচারণ, দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভার আয়োজন থাকবে।
১৬ জুলাইকে ‘জুলাই শহীদ দিবস’ হিসেবে পালন করে ঢাকার দুই মহানগরীতে পৃথক আলোচনা সভার আয়োজন করা হবে। এরপর ১৮ থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত সারা দেশে জেলা, মহানগর ও উপজেলা পর্যায়ে শহীদ ও আহত পরিবারের সঙ্গে মতবিনিময়, স্মৃতিচারণ ও দোয়া অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা রয়েছে।
এছাড়া ১ আগস্ট মহানগর, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে গণমিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। একই সময়সীমায় (১ থেকে ৪ আগস্ট) শ্রমিক সংগঠনের পক্ষ থেকেও আলাদা কর্মসূচি পালিত হবে।
দলটির পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, ৫ আগস্ট ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে রাজধানীসহ সারা দেশে ১১টি রাজনৈতিক দলের যৌথ কর্মসূচিতে সমাবেশ ও মিছিলে অংশ নেবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। পাশাপাশি মহিলা বিভাগ, ছাত্র সংগঠন এবং বিভিন্ন ‘জুলাই যোদ্ধা’ ফোরামের কর্মসূচিতেও সক্রিয় অংশগ্রহণ থাকবে।
সংবাদ সম্মেলনে তিনটি প্রধান দাবি তুলে ধরেন মিয়া গোলাম পরওয়ার। এগুলো হলো— জুলাই আন্দোলন চলাকালীন সংঘটিত হত্যাকাণ্ড ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার দ্রুত সম্পন্ন করা, ওসমান বিন হাদির হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করা এবং গণভোটের রায় ও ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বান করা।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
Leave a Reply