ক্রীড়া ডেস্ক
বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে নিজেদের দাপট অব্যাহত রেখেছে ফ্রান্স জাতীয় ফুটবল দল। বৈরী আবহাওয়া ও দীর্ঘ বিরতির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেও ইরাকের বিপক্ষে ৩-০ গোলের দারুণ জয় তুলে নিয়েছে ফরাসিরা। ম্যাচে জোড়া গোল করেছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে, আর একটি গোল এসেছে উসমান দেম্বেলের পা থেকে। এই জয়ের ফলে গ্রুপ ‘আই’ থেকে সবার আগে শেষ ৩২ নিশ্চিত করেছে ফ্রান্স।
যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়া-এ অনুষ্ঠিত ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে ফ্রান্স। ম্যাচের ১৪তম মিনিটে দলের হয়ে প্রথম গোল করেন এমবাপ্পে। বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া তার শক্তিশালী বাঁ-পায়ের শট ইরাকের গোলরক্ষককে পরাস্ত করে জালের কোণে আশ্রয় নেয়। দুর্দান্ত এই গোলে শুরুতেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে তুলে নেয় ফরাসিরা।
তবে প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগেই প্রকৃতি বাধা হয়ে দাঁড়ায়। স্টেডিয়ামের আশপাশে বজ্রপাতের আশঙ্কা ও ঝড়ো আবহাওয়ার কারণে ম্যাচ সাময়িকভাবে স্থগিত ঘোষণা করে আয়োজকরা। নিরাপত্তার স্বার্থে দর্শকদের গ্যালারি ছেড়ে আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। প্রায় দুই ঘণ্টারও বেশি সময় বন্ধ থাকার পর আবার মাঠে গড়ায় খেলা।
দীর্ঘ বিরতির পর মাঠে ফিরে ছন্দ হারায়নি ফ্রান্স। বরং আরও বেশি আত্মবিশ্বাসী ফুটবল উপহার দেয় তারা। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে প্রতিপক্ষ গোলরক্ষকের ভুলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন এমবাপ্পে। এর মাধ্যমে বিশ্বকাপ ইতিহাসে তার গোলসংখ্যা দাঁড়ায় ১৬-তে। ফলে তিনি জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসার বিশ্বকাপ গোলসংখ্যার রেকর্ড স্পর্শ করেন।
ম্যাচের শেষদিকে ফ্রান্সের তৃতীয় গোলটি আসে দারুণ এক দলীয় আক্রমণ থেকে। মাইকেল ওলিসর নিখুঁত পাস থেকে গোল করেন দেম্বেলে। বিশ্বকাপের মঞ্চে এটি ছিল তার প্রথম গোল, যা জয়কে আরও স্মরণীয় করে তোলে।
এদিনের ম্যাচটি এমবাপ্পের জন্য ব্যক্তিগতভাবেও ছিল বিশেষ। মাত্র ২৭ বছর বয়সে ফ্রান্সের জার্সিতে ১০০তম আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেললেন তিনি। শততম ম্যাচে জোড়া গোল করে নিজের অর্জনকে আরও উজ্জ্বল করে তুলেছেন এই তারকা ফরোয়ার্ড।
গ্রুপ পর্বে এখন পর্যন্ত ফ্রান্সের পারফরম্যান্সও ঈর্ষণীয়। প্রথম ম্যাচে সেনেগালকে ৩-১ গোলে হারানোর পর দ্বিতীয় ম্যাচে ইরাকের বিপক্ষেও একই ব্যবধানে জয় তুলে নেয় তারা। দুই ম্যাচে ছয় পয়েন্ট নিয়ে নকআউট নিশ্চিত করলেও গ্রুপসেরা হওয়ার লড়াই এখনও বাকি। শেষ ম্যাচে নরওয়ে জাতীয় ফুটবল দলর বিপক্ষে জয় পেলে শীর্ষস্থান নিশ্চিত হবে ফরাসিদের।
বিশ্লেষকদের মতে, এমবাপ্পের দুর্দান্ত ফর্ম, দেম্বেলের আত্মবিশ্বাসী পারফরম্যান্স এবং দলের সামগ্রিক ভারসাম্য ফ্রান্সকে আবারও শিরোপার অন্যতম দাবিদার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। ঝড়-বৃষ্টি, দীর্ঘ বিরতি কিংবা প্রতিকূল পরিস্থিতি—কিছুই যেন থামাতে পারছে না দিদিয়ে দেশমের শিষ্যদের এগিয়ে চলা।
Leave a Reply