সদর উপজেলার পঞ্চগ্রাম ইউনিয়নের বড়বাড়ী এলাকায় অবস্থিত মোঘল আমলের প্রাচীন স্থাপত্য নিদর্শন নিদাড়িয়া মসজিদ প্রায় তিন শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির এক উজ্জ্বল সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। শুধু ধর্মীয় উপাসনালয় হিসেবেই নয়, এটি স্থানীয়দের কাছে প্রাচীন শিল্প-সংস্কৃতি ও স্থাপত্যশৈলীর অমূল্য সম্পদ হিসেবে বিবেচিত।
মসজিদের শিলালিপি অনুযায়ী, ১১৭৬ হিজরি (১৭৫৫ খ্রিষ্টাব্দে) মোঘল সুবেদার মাসুদ খাঁ ও তাঁর পুত্র মনছুর খাঁর তত্ত্বাবধানে এ মসজিদ নির্মিত হয়। কয়েক শত বছরের ইতিহাস বহন করা এই স্থাপনাটি বর্তমানে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের তালিকাভুক্ত সংরক্ষিত প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে।
নিদাড়িয়া মসজিদ এককক্ষবিশিষ্ট হলেও স্থাপত্যশৈলীতে এর বৈশিষ্ট্য অনন্য। ছাদে রয়েছে তিনটি গম্বুজ এবং চার কোণে চারটি সুদৃশ্য মিনার। নির্মাণে ব্যবহৃত হয়েছে সে সময়কার প্রচলিত ইট, চুন ও সুরকি। গম্বুজ, দেয়াল ও অলঙ্করণে মোঘল আমলের নকশা আজও স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান। শত বছরের প্রলেপে কিছুটা জীর্ণ হলেও এর শৈল্পিক সৌন্দর্য দর্শনার্থীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, নিদাড়িয়া মসজিদ শুধু নামাজ আদায়ের স্থান নয়, বরং এটি অতীত ইতিহাসের এক অমূল্য স্মারক। প্রতিদিন এলাকার মানুষ এখানে নামাজ আদায় করেন, আর দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ইতিহাসপ্রেমী দর্শনার্থীরা আসেন এ প্রাচীন নিদর্শন দেখতে।
লালমনিরহাটের প্রবীণরা জানান, শত শত বছর ধরে এ মসজিদ গ্রামীণ ধর্মীয় চর্চার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে আছে। একই সঙ্গে এটি স্থানীয় সমাজ-সংস্কৃতির ঐতিহ্য ধরে রেখেছে।
ইতিহাসবিদরা মনে করেন, নিদাড়িয়া মসজিদ শুধু লালমনিরহাট নয়, পুরো উত্তরবঙ্গের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহ্য। সংরক্ষণে যথাযথ উদ্যোগ নেওয়া হলে এটি জাতীয় পর্যায়ে পরিচিতি পেতে পারে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা—সরকারি উদ্যোগে এ মসজিদের সৌন্দর্য ও স্থাপত্য ঐতিহ্য ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অক্ষুণ্ণ রাখা হবে।
মোঘল আমলের গ্রামীণ স্থাপত্যশৈলীর উজ্জ্বল নিদর্শন নিদাড়িয়া মসজিদ আজও অতীতের ইতিহাসকে ধারণ করে দাঁড়িয়ে আছে। ধর্মীয় উপাসনালয় হিসেবে প্রতিদিনের ব্যবহার ছাড়াও এটি উত্তরবঙ্গের সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক ঐতিহ্যের গৌরবময় প্রতীক হয়ে উঠেছে।
Leave a Reply