ক্রীড়া ডেস্ক
আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড—বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম আলোচিত দুই প্রতিদ্বন্দ্বী। ইতিহাস, আবেগ, নাটকীয়তা আর নানা বিতর্কে ঘেরা এই দুই দলের লড়াই সবসময়ই আলাদা আকর্ষণ তৈরি করে। এবার দীর্ঘ অপেক্ষার পর বিশ্বকাপের মঞ্চে আবারও মুখোমুখি হতে যাচ্ছে ফুটবলের এই দুই শক্তিশালী দল।
বুধবার রাতে আটলান্টায় অনুষ্ঠিতব্য সেমিফাইনালে জয়ী দল নিশ্চিত করবে বিশ্বকাপের ফাইনালের টিকিট। তবে ম্যাচটি শুধু শিরোপার লড়াই নয়, আর্জেন্টিনার বর্তমান কোচিং স্টাফের কয়েকজন সদস্যের জন্য এটি অতীত স্মৃতিরও পুনরাবৃত্তি।
দুই দলের সর্বশেষ সাক্ষাৎ হয়েছিল ২০০৫ সালে সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় অনুষ্ঠিত এক আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে। সেই ম্যাচে ৩-২ গোলে জয় পেয়েছিল ইংল্যান্ড। মজার বিষয় হলো, আর্জেন্টিনার বর্তমান কোচিং দলের তিন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ওই ম্যাচের সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিলেন।
সেদিন আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগ সামলেছিলেন ওয়াল্টার স্যামুয়েল ও রবার্তো আয়ালা। আর দলের বেঞ্চে ছিলেন বর্তমান কোচ লিওনেল স্কালোনি। সময়ের ব্যবধানে সেই সাবেক ফুটবলাররাই এখন আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ অভিযানের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
স্কালোনির জীবনীকার দিয়েগো বোরিনস্কির ভাষ্য অনুযায়ী, ২০০৫ সালের ওই ম্যাচের পর তৎকালীন কোচ হোসে পেকেরম্যান স্কালোনির সামর্থ্য নতুনভাবে মূল্যায়ন করেছিলেন। ডান প্রান্তে হাভিয়ের জানেত্তির বিকল্প হিসেবে তাকে আরও গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টি তখন সামনে আসে। সেই সময়ের খেলোয়াড় স্কালোনিই আজ আর্জেন্টিনার প্রধান কোচ হয়ে বিশ্বকাপের মঞ্চে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে কৌশল সাজাচ্ছেন।
বর্তমান আর্জেন্টিনা কোচিং স্টাফে স্কালোনির সঙ্গে রয়েছেন স্যামুয়েল, আয়ালা ও সাবেক তারকা পাবলো আইমার। বন্ধুত্ব, পারস্পরিক আস্থা এবং ফুটবলকে উপভোগ করার মানসিকতার ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে তাদের কোচিং দর্শন। ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, এই চারজনের সমন্বয় ও বোঝাপড়াই আর্জেন্টিনার সাম্প্রতিক সাফল্যের অন্যতম বড় শক্তি।
এদিকে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটি লিওনেল মেসির ক্যারিয়ারেও হতে যাচ্ছে বিশেষ এক অধ্যায়। কারণ জাতীয় দলের হয়ে দীর্ঘ দুই দশকের ক্যারিয়ারে এখনো ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামার সুযোগ হয়নি আর্জেন্টাইন অধিনায়কের।
২০০৫ সালের আগস্টে হাঙ্গেরির বিপক্ষে জাতীয় দলে অভিষেক হয়েছিল মেসির। কিন্তু অভিষেক ম্যাচেই বদলি হিসেবে মাঠে নামার মাত্র ৪৩ সেকেন্ড পর লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয় তাকে। সেই নিষেধাজ্ঞার কারণেই কয়েক মাস পর জেনেভায় ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচের স্কোয়াডে থাকলেও মাঠে নামা হয়নি তার।
এরপর আর্জেন্টিনার হয়ে অসংখ্য ম্যাচ খেলেছেন মেসি, জিতেছেন কোপা আমেরিকা ও বিশ্বকাপের মতো বড় শিরোপা। কিন্তু ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জাতীয় দলের জার্সিতে তার আর খেলা হয়নি। তাই ক্যারিয়ারের শেষ অধ্যায়ে এসে প্রথমবারের মতো ইংলিশদের বিপক্ষে মাঠে নামার সুযোগ পাচ্ছেন ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা এই তারকা।
বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার রাত ১টায় আটলান্টায় শুরু হবে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের বহুল প্রতীক্ষিত সেমিফাইনাল। একদিকে মেসির নেতৃত্ব, অন্যদিকে ডাগআউটে স্কালোনি-স্যামুয়েল-আয়ালাদের পুরোনো স্মৃতি—সব মিলিয়ে ম্যাচটি ঘিরে ফুটবলপ্রেমীদের আগ্রহ এখন তুঙ্গে।
Leave a Reply