1. tistanewsbd2017@gmail.com : Tista24 :
July 15, 2026, 3:28 pm

নদীতে জুলাই শহীদদের লাশ ভাসিয়ে দেওয়ার তথ্য তদন্ত করছে কর্তৃপক্ষ: চিফ প্রসিকিউটর

Reporter Name
  • Update Time : Wednesday, July 15, 2026
  • 20 Time View

তিস্তা টিভি ডেস্ক

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নিহত ব্যক্তিদের লাশ গোপন করার অভিযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তদন্তে উঠে এসেছে বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেন, তদন্তে এমন তথ্য পাওয়া গেছে যে, ঢাকার একটি হাসপাতাল থেকে অনেক নিহতের মরদেহ পাশের একটি নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তি ও সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলছে।

বুধবার (১৫ জুলাই) রাজধানীর রায়েরবাজার শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থান-সংলগ্ন জুলাই শহীদদের গণকবর পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব তথ্য জানান।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, তদন্ত দল বিভিন্ন সূত্র, সাক্ষ্য-প্রমাণ ও তথ্য-উপাত্ত যাচাই করে ঘটনাটির সত্যতা অনুসন্ধান করছে। তদন্ত শেষ হলে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি জানান, যে মরদেহগুলো নদীতে ভাসিয়ে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে, সেগুলোর পরিচয় শনাক্তের কাজও চলছে। আধুনিক ফরেনসিক প্রযুক্তি, ডিএনএ পরীক্ষা এবং অন্যান্য বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির মাধ্যমে নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

প্রসিকিউশনের তথ্য অনুযায়ী, রায়েরবাজারের গণকবরে মোট ১১৪টি মরদেহ দাফন করা হয়েছে। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত আটজন জুলাই শহীদের পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে। বাকি মরদেহগুলোর পরিচয় শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

আমিনুল ইসলাম বলেন, জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষ নিহত হয়েছেন। সেই প্রেক্ষাপটে সম্ভাব্য সব গণকবর এবং অজ্ঞাত মরদেহের তথ্য সংগ্রহ করে একটি পূর্ণাঙ্গ তদন্ত পরিচালনা করা হচ্ছে। এ পর্যন্ত ৮৩৪ জন নিহত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, শুধু রায়েরবাজার নয়, জুরাইন, মাতুয়াইল, নারায়ণগঞ্জ ও মুন্সিগঞ্জের বিভিন্ন গণকবরও পর্যায়ক্রমে পরিদর্শন করা হবে। এসব স্থান থেকে সংগৃহীত তথ্য ও আলামত বিশ্লেষণের মাধ্যমে নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দায় নিরূপণের চেষ্টা চলছে।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, তদন্তের মূল লক্ষ্য হলো প্রতিটি নিহত ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত করা, তাদের পরিবারের কাছে সত্য তুলে ধরা এবং যেসব ব্যক্তি হত্যাকাণ্ড, মরদেহ গোপন বা প্রমাণ নষ্টের সঙ্গে জড়িত ছিলেন, তাদের আইনের আওতায় এনে জবাবদিহি নিশ্চিত করা।

তিনি জানান, তদন্ত কার্যক্রম শেষ হলে প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে প্রয়োজনীয় অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2019 Jaldhaka IT Park
Theme Customized By LiveTV